আড়ানী মেয়রের বাড়ি থেকে কোটি টাকা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলীর বাড়ি থেকে প্রায় কোটি টাকা, অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আড়ানী পৌর এলাকার পিয়াদাপাড়া মহল্লায় মেয়র মুক্তারের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।
বাড়ি থেকে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটার গান, দেশে তৈরি একটি বন্দুক, একটি এয়ার রাইফেল, শটগানের ২৬ রাউন্ড গুলি, চারটি পিস্তলের ম্যাগজিন, পিস্তলের ১৭ রাউন্ড গুলি, চারটি গুলির খোসা, ১০ গ্রাম গাঁজা, সাত পুরিয়া হেরোইন, ২০ পিস ইয়াবা, নগদ ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং মেয়রের দুটি সই করা চেক জব্দ করেছে। চেকে টাকার পরিমাণ ১৮ লাখ।
এ সময় মেয়র মুক্তারের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪০) এবং দুই ভাতিজা সোহান (২৫) ও শান্তকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মুক্তার আলী। আটক সোহানের বাবার নাম নবাব আলী। আর আটক শান্তর বাবার নাম সামিরুল।মুক্তার আলী আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি দলীয় মনোনয়নেই মেয়র হয়েছিলেন।
তার বাড়িতে অভিযানের পর বুধবার দুপুরে রাজশাহীর এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌরসভার জয়বাংলা মোড়ে বাড়ি সংলগ্ন ওষুধের দোকানে বসেছিলেন মনোয়ার হোসেন মজনু। তিনি নাটোরের বাঁশবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। গত পৌরসভা নির্বাচনে মনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শহীদুজ্জামানের পক্ষে কাজ করেন।
এ কারণে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মেয়র মুক্তার আলী। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মেয়র মদ্যপ অবস্থায় তার দলবল নিয়ে গিয়ে কলেজ শিক্ষক মনোয়ার হোসেনের দোকানের সামনে গিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর মনোয়ার ও তার স্ত্রী এবং ছেলেকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় রাতেই মনোয়ার হোসেন মেয়র মুক্তার আলী ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. অঙ্কুরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর রাতেই পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার বাড়ি থেকে অস্ত্র, মাদক, টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় মেয়রের স্ত্রীসহ তিনজনকে। তবে পালিয়ে গেছেন মেয়র।
এসপি জানান, বাড়িতে পাওয়া কোটি টাকার উৎস জানাতে পারেনি পরিবার। আর আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর কোনো লাইসেন্স নেই।’ তিনি জানান, আগে থেকেই মেয়রের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা ছিল। নতুন করে শিক্ষক মনোয়ার হোসেন একটি মামলা করেছেন। এছাড়া অস্ত্র, টাকা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ আরও তিনটি মামলা করবে। মেয়রকে আটকের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান এসপি।


