English Version
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২১ ১৫:৪৬

চাঁদপুরে মেছো বাঘের শাবক আটক

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরে মেছো বাঘের শাবক আটক

চাঁদপুরে মাটি খুড়ে একটি মেছো বাঘের শাবক আটক করা হয়েছে। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের রামদাসদী গ্রামের কৈয়ারবিল বাজারে খেলার মাঠ থেকে মেছো বাঘটি আটক করে কয়েকজন কিশোর। পরে চাঁদপুর বন বিভাগে মেছো বাঘের শাবকটিকে হস্তান্তর করা হয়। 

গতকাল শুক্রবার (২৫ জুন) বিকেলে মেছো বাঘের শাবকটিকে চাঁদপুর বন বিভাগের সহায়তায় উদ্ধার করে ঢাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

এলাকাবাসী জানায়, মেঘনার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের জঙ্গলে খাদ্য সংকটে অনেক প্রাণি লোকালয়ে চলে আসছে। আগেও কয়েকবার এই ধরনের মেছোবাঘ ধরা হয়েছে। আমাদের এলাকার পার্শ্ববর্তী চর এলাকা। সেখানে বড় বড় জঙ্গল আছে। এসব জঙ্গলে বিভিন্ন প্রাণির মধ্যে বিষধর সাপও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই চরে খাবার সংকটের কারণে মেছোবাঘসহ বিভিন্ন প্রাণি নদী পার হয়ে আমাদের বিভিন্ন গ্রামে চলে আসছে।জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নে একদল কিশোর মাঠে খেলা করার সময় হঠাৎ দেখতে পায় বিড়াল আকৃতির একটি মেছোবাঘ খেলার মাঠের পাশে উচু একটি স্থানে বসে তাকিয়ে আছে। কিশোররা মেছো বাঘটিকে ধরতে গেলে সে পার্শ্ববর্তী মাটির গর্তে ডুকে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কিশোদের সাথে কিছু যুবক একত্রিত হয়ে রাতে মাটি খুড়ে গর্ত থেকে মেছো বাঘের শাবকটিকে ধরে রাস্তায় নিয়ে আসে। মেছো বাঘটি তখন নড়াচড়া করতে পারছিল না। তখন সকলের ধারণা মেছো বাঘটি অনাহারে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। না হলে এত সহজে এটিকে ধরা সম্ভব হতো না। উপস্থিত কিশোররা টাকা খরচ করে স্থানীয় বাজার থেকে মুরগি কিনে এনে মেছো বাঘের শাবককে খেতে দেয়। সেই মুরগী খেয়ে মেছো বাঘটি অনেকটা শক্তি অর্জন করে। পরে মেছো বাঘটিকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হলে উৎসুক এলাকাবাসী বাজারে ছুটে আসে। 

স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ সফিকুর রহমান গাজী জানান, এলাকার একদল কিশোর মেছো বাঘটিকে দেখে প্রথমে বন বিড়াল ভেবেছিল। এটিকে নিয়ে তারা হৈ হুল্লোর করছিল। তাদের হৈ হুল্লোর শুনে সেখানে গিয়ে দেখি একটি মেছো বাঘ গর্তে লুকিয়ে আছে। পরে কিশোরদের সাথে যুবকরা রাতে মেছো বাঘটি আটক করে খাঁচায় বন্দি করে। চাঁদপুর বন বিভাগের দায়িত্বে  সফিকুল ইসলাম জানান, আগেও এই এলাকা থেকে স্থানীয়রা মেছো বাঘ আটক করে বন বিভাগে দিয়েছে। এই এলাকার কাছে নদী ও খাল থাকায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে খাবারের সন্ধানে মেছো বাঘের শাবকরা এখানে চলে আসে। মেছো বাঘটি দীর্ঘদিন অনাহারে থেকে অনেক নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।