English Version
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২১ ১১:৩২

বর্ষার প্রস্তুতিতে ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

অনলাইন ডেস্ক
বর্ষার প্রস্তুতিতে ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

শামীম হোসেন সামন, দোহার (ঢাকা) থেকে: হালকা পাতলা বৃষ্টি জানাচ্ছে বর্ষার আগমনী  বার্তা। এতে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জ  উপজেলার নৌকার কারিগররা। কেউ কেউ নতুন নৌকা তৈরি করছে। আবার  কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করছে। জৈষ্ঠ্যের শুরু থেকেই বিভিন্ন গ্রামে নৌকা তৈরি করতে দেখা গেছে। বর্ষায় নিচু অঞ্চলের বাসিন্দাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা।

চারদিকে বর্ষায় যখন রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় তখন নৌকা ছাড়া কোনো ভাবে ই পারাপার হওয়া যায় না। কেউ কেউ কলা গাছের ভেলা তৈরি করলেও কয়েকদিন ব্যবহারের পর তা আর টিকে না। এখন এলাকার কারিগররা নৌকা তৈরিতে মহাব্যস্ত। শুরু হয়েছে বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্ষার আগেই নৌকা বিক্রি । তাই বসে নেই কারিগররা। সকাল থেকেই ব্যস্ততা চলছে নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে।

গ্রামগঞ্জে মৌসুমী ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত মাঝি ও কারিগরা। নদ নদীর পানি বৃদ্ধি আর বৃষ্টি ই জানান দিচ্ছে আসছে  বর্ষা। আর বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে নিচু অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। কিন্তু করোনা কালেও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নৌকার অস্থায়ী দোকানও গড়ে উঠেছে। সেখানে কারিগররা মহাব্যস্ত। দিনে প্রতিটি কারিগর ১ টা করে নৌকা তৈরি করে থাকেন।

দোকানে ৮-১০ জন কারিগর কাজ করছে। নৌকা তৈরি শেষে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি আর আগের মতো বর্ষা না হওয়ার কারনে দিন দিন নৌকার চাহিদা কমছে। তবে বর্ষা মৌসুম জুড়ে নৌকার চাহিদা বাড়ে। আর নিচু অঞ্চলের মানুষের বর্ষায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই বর্ষার আগেই কেউ কেউ নৌকা কিনে রাখছেন।

বর্ষায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারনে দামও বেড়ে যায়। তাই ক্রেতারা এখন ই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আবার কেউ পুরাতন নৌকা মেরামত করতে শুরু করেছে।  নবাবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে নৌকা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পারছে।

মাঝি, জেলে ও কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতি বছরই বর্ষার আগে পুরনো নৌকা মেরামত করা হয়। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শুষ্ক মৌসুমে মেরামতকৃত পুরো বর্ষা মৌসুম সবজি ও মালামাল করতে হয়।

উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বারুয়াখালী, নবগ্রাম, মাদলা ব্রাহ্মণখালী, বাহেরচর, হাগ্রাদি, দাউদপুর, গজারিয়া, শংকরদিয়া, সোনাবাজু, রাজাপুর, বালেঙ্গা, তিতপালদিয়া, ভাঙ্গাপাড়া ও জৈনতপুর এলাকায় পুরনো নৌকা মেরামত ও নতুন নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। সবাই বর্ষার আগেই নৌকা তৈরি ও মেরামত করে প্রস্তুত করে রাখছে।

নৌকার কারিগর বারুয়াখালী ইউনিয়নের ব্রাহ্মনখালী এলাকার নয়ন মন্ডল জানান, নৌকা তৈরি মেরামত তার পূর্ব পুরুষের পেশা। তিনি গত ১০ বছর ধরে এ পেশা ধরে রেখেছেন। প্রতি মৌসুমে ছোট বড় প্রকারভেদে নৌকা তৈরি করে থাকেন। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে তার মজুরি ১ হাজার টাকা। আর এই নৌকা বিক্রি করা হয় ৩০০০-৫০০০ টাকায়। কখনো চাহিদা বেশি থাকলে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকাও বিক্রি করা হয়ে থাকে। বেশি চাহিদা ছোট আকারের কোসা নৌকা।

কারিগর গৌর হালদার বলেন, এ কাজের সাথে তিনি দুই যুগ ধরে আছেন। সারাবছর ঘর তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্ষার আগেই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে হয় তার। প্রতিটি নৌকা ৯০০-১০০০ টাকা মজুরিতে তৈরি করে থাকেন। চাহিদা বেশি থাকলে কখনো ১২০০- ১৫০০ টাকায় তৈরি করা হয়।

আর প্রতিটি নৌকা ৩০০০-৫০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বারুয়াখালী ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া এলাকার মোতালেব খাঁ বলেন, আগে ভালো ভালো কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করা হতো। এখন কড়ই, বাবলা দিয়েই বেশি নৌকা তৈরি করা হয়। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তৈল, আলকাতরা, তারকাঁটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি লাগে, যা নৌকাকে দীর্ঘদিন টেকসই রাখে।