English Version
আপডেট : ১০ জুন, ২০২১ ১৫:০৪

ভুলে ভরা শিক্ষার্থী তথ্যছক বাতিলের দাবি ইসলামী ছাত্রসেনার

অনলাইন ডেস্ক
ভুলে ভরা শিক্ষার্থী তথ্যছক বাতিলের দাবি ইসলামী ছাত্রসেনার

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (​ব্যানবেইস) প্রণীত ভুলে ভরা শিক্ষার্থী তথ্যছক বাতিল করে পুনরায় সংশোধিত তথ্যছক প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রসেনা। এ দাবির বিষয়ে দেশব্যাপী জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে তারা। 

ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি এ.বি. এম. আরাফাত মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ মজুমদার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপির অনুলিপিতে প্রণীত তথ্যছকটির অসংগতিগুলো তুলে ধরে বলা হয়, ব্যানবেইস কর্তৃক এস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের অধীনে ষষ্ঠ শেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদানের লক্ষ্যে সরবরাহকৃত তথ্যছক এর 'ক' অংশের ৮ নং ক্রমিকে 'ধর্ম' অপশনে ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান এর পাশাপাশি  'Not a believer'  এবং 'Refuse to disclos’ অপশন জুড়ে দেয়া হয়েছে। এদেশের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করে থাকে এবং স্ব-ধর্ম চর্চার মাধ্যমে বড় হয়ে থাকে। উল্লেখিত ফরমে  'Not a believer' ও  'Refuse to disclose' এ দুইটি অপশন শিক্ষার্থীদের মনে নিজ ধর্মের প্রতি উদাসীনতা জাগিয়ে নাস্তিক্যবাদের প্রতি ঝুঁকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এতে করে ধর্মীয় অনুশাসন বিবর্জিত একটি গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়ে দেশে অশান্তি ছড়িয়ে দিবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে উদ্বুদ্ধ করে সুশিক্ষিত করায় ব্রতী হওয়া যৌক্তিক, সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজ ধর্ম ত্যাগে উদ্বুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন তথ্য সংযোজন করে নাস্তিক্যবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমরা আপামর ছাত্রজনতা ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এধরনের কার্যক্রমের তীব্র বিরোধিতা করছি।

আমরা আরও লক্ষ্য করেছি, 'ক' অংশে ১১ নং ক্রমিক এ শিক্ষার্থীর বৈবাহিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। দেশীয় আইনে মেয়েদের বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে করার অনুমতি নেই। অথচ অনধিক ১৮ বছর বয়সে একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পার হয়ে থাকে। সুতরাং, এধরনের তথ্য চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমরা মনে করি না।একই ফরমের একই অংশের ৬ নং ক্রমিক এ লিঙ্গ পরিচয়ের অপশনে পুরষ ও নারী উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের শব্দ চয়ন নিতান্তই বেমানান। এসব শব্দের স্থলে ছাত্র এবং ছাত্রী উল্লেখ করা যৌক্তিক বলে আমরা বিশ্বাস করি।