English Version
আপডেট : ৬ জুন, ২০২১ ১৫:২৮

সম্পত্তি দখলে করতে ভিক্ষুকসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

অনলাইন ডেস্ক
সম্পত্তি দখলে করতে ভিক্ষুকসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

গোপালগঞ্জে জাহানারা বেগম নামে এক ভিক্ষুকের সম্পত্তি দখলে ব্যর্থ হয় ভাসুরের ছেলে শহীদুল ভূঞা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদুল ও তার চার ছেলে মিলে জাহানারা এবং তার মেয়েসহ তিন জনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম। বুধবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার কাজুলীয়া মাদ্রাসাপাড়া ভূঞা বাড়ীতে ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত জাহানারা বেগম (৭০), তার মেয়ে রিজিয়া বেগম (৩৫) ও প্রতিবেশী আলীউজ্জামান ভূইঞাকে (৬৫) প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ৩জনকে ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এলাকাবাসীদের কাছ থেকে জানাযায়, জাহানারার স্বামী বেশ আগে মারা গেছেন। বাড়ী বাড়ী ভিক্ষা করে তার সংসার চলতো। ছয় শতাংশ জমি তার শেষ সম্বল। দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তারা থাকেন শশুর বাড়ীতে। ছেলে না থাকায় ভাসুরের ছেলে শহীদুল ভূইঞা আপছা সম্পত্তি হিসেবে এক শতক দাবি করে দেড় শতক জমির উপর ঘর করে থাকে। ঘর না থাকায় এলাকাবাসী চাঁদা তুলে জাহানারা বেগমকে স্বামীর ভিটায় একটি ঘর করে দেন। বয়সের ভারে এখন সে ঠিক মত চলতে পারে না।

শহীদুল আপছা সম্পত্তিতে সন্তুষ্ট না, সে পুরো সম্পত্তি দখলের নিতে ঘর তোলার উদ্যেশ্যে মাটি খোড়া শুরু করে। বাধা দিতে গেলে শহীদুল ও তার ছেলেরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহানারা ও তার মেয়ে রিজিয়াকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আলীউজ্জামান ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। এ ব্যাপারে প্রতিবেশী আলীউজ্জামান ভূঞার ছেলে মোঃ আল হাদিস ভূইয়া বাদী হয়ে শহীদুল ভূঞা (৫২), তার চার ছেলে মো. মুহিম ভূঞা (২৫), মো. তুহিন ভূইঞা (২২), মো. জসিম ভূঞা (২৮), মো. শাহিন ভূইঞা (১৯) ও স্ত্রী রাজিয়া বেগমের (৫০) নামে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

কাজুলীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাখম লাল দাস জানান, পূর্বেই শহীদুল ভূঞার বিরুদ্ধে কাজুলিয়া পল্লী মঙ্গল ইউনাইটেড স্কুল এ্যান্ড কলেজের স্বরস্বতি পূজা মন্ডপে ও বাজুনিয়া কালি মন্দিরে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় বর্তমানে মামলা রয়েছে। তিনটি ঘটনায়ই তার বিচার হবে আশাকরি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আইয়ুব হোসেন জানান, আমরা রাজিয়া বেগম নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।