English Version
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৫৪

গৃহবধূকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন, চাচা গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
গৃহবধূকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন, চাচা গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শান্তা আক্তার (২৫) নামে তিন সন্তানের জননীকে হাত-পা বেঁধে মারধোরের পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করার দায়ে চাচাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রাম থেকে তাকে চাচা আলী মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২০ জানুয়ারি) সকালে গ্রেফতারকৃত আলী মিয়াকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. আবদুর রহিম বলেন, গত রোববার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রামে শান্তা আক্তার নামে তিন সন্তানের জননীকে হাত-পা বেঁধে মারধোর শেষে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করে। এই ঘটনায় শান্তার মা রওশন আরা বাদী হয়ে শান্তার তিন চাচা হুমায়ূন মিয়া, আলী মিয়া ও রতন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

উল্লেখ্য, আহত শান্তা আক্তার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রামের আলগাবাড়ির আইয়ুব মিয়ার মেয়ে ও একই গ্রামের পাশাপাশি বাড়ির রাজমিস্ত্রি রাসেল মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জননী। গত কয়েক দিন আগে শান্তার ছেলের সাথে চাচা হুমায়ূন মিয়ার ছেলের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। এ নিয়ে হুমায়ূন মিয়া শান্তাকে গালাগাল করে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। 

এরপর গত রোববার সন্ধ্যায় শান্তা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে চাচা হুমায়ূন মিয়া তার মুখোশপড়া কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে শান্তাকে আটক করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে শান্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে আচর দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় শান্তার চিৎকারে তার মা রওশন আরাসহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হুমায়ূন মিয়া ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত শান্তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

হাসপাতালে শান্তার মা রওশন আরা বলেন, রোববার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে শান্তা ডাক্তার দেখাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার সময় হুমায়ূন মিয়া তার কয়েকজন মুখোশপড়া সহযোগী নিয়ে শান্তার হাত-পা বেঁধে এক পর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে জখম করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শান্তা আক্তার বলেন, হুমায়ূন মিয়া তাকে গত কয়েকদিন ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রোববার রাতে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধোর শেষে ব্লেড দিয়ে আচর দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।