English Version
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০১৭ ১৪:২৮
পৌর মেয়রের দাবি নাশকতা

আক্কেলপুর তুলসী গঙ্গা নদীর বাঁধ ভেঙে শহর প্লাবিত

আক্কেলপুর তুলসী গঙ্গা নদীর বাঁধ ভেঙে শহর প্লাবিত

 

সকাল ৭ টা। নদীর পারের মানুষ এখনও সবাই ঘুম থেকে উঠেনি। এরই মধ্যে চারিদিকে চিৎকার শুরু হল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসদরে অবস্থিত পারঘাটি নামক স্থানে শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। কেউ রাতের বেলায় বাঁধে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটি কেটে দিয়েছেন বলে পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ধারণা করছেন। 

 

বাঁধ ভাঙার কারণে এলাকায় দ্রুত পানি এসে যাওয়াই স্থানীয় বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পরেছেন। ঘর থেকে কোন জিনিস পত্র বের করে নিতে পারেনি স্থানীয়রা। শুধুমাত্র পরনের কাপর পরেই উচু জায়গাতে ঠায় নেই। মুহুর্তের মধ্যে ভেঙে গেছে প্রায় ৩০-৪০ হাত জায়গা। প্লাবিত হচ্ছে পৌর সদরের সিদ্ধীর মোড়, উপজেলা পরিষদের কোয়াটার, ডাকবাংলো, মাষ্টার পাড়া সহ আশপাশের এলাকা। শহরের ডাকবাংলো এলাকায় রাস্তা ডুবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ভারী যানবাহন চলাচল।

  শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় পারঘাটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে পুরো এলাকায় এক বুক পানি। সেখানকার অধিকাংশ লোক ঘরের কোন জিনিসপত্র বের করতে পারে নি। শুধুমাত্র পরনের কাপড় পরেই দাড়িয়ে রয়েছে নিরাপদ স্থানে। ডুবে গেছে ওই এলাকার নলকূপ।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল হোসেন বলেন, চারিদিকে বন্যা হচ্ছে সবাই জানেন। তখন থেকেই যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিম রেডি থাকতো কিংবা পরিকল্পনা করে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া হতো তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা যেত।

 

পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পল্টু বলেন, বাঁধ ভাঙ্গার সাথে সাথে আমি বস্তা নিয়ে এলাকায় এসে লোকজনকে নিয়ে বাঁধ মেরামত করার চেষ্টা করছি। সেই সাথে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের তালিকা করে মেয়রকে নিয়ে সরকারি ত্রানের ব্যবস্থা করা হবে। 

 

ঘটনার পরে পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি ভাল ছিল। হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে গেছে। তখন স্থানীয়রা কেউ কেউ ঘুম থেকেই উঠেনি। আমার কাছে বাঁধ ভাঙার ঘটনাটি নাশকতা মনে হচ্ছে। তবে চেষ্টা চলছে বাঁধটি বাঁধার জন্য।