English Version
আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৪৭
নিষিদ্ধ নোট গাইড বইয়ের ব্যবসা

আনুষ্ঠানিকভাবে ভূরিভোজের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা বিধ্বংসী শিক্ষকদের ম্যানেজ করে

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
আনুষ্ঠানিকভাবে ভূরিভোজের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা বিধ্বংসী শিক্ষকদের ম্যানেজ করে

নড়াইলে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে সরকার নিষিদ্ধ নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই নিয়ে ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রীতিমত আনুষ্ঠানিকভাবে সভা করে এ বই ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক “জননী প্রকাশনীর” নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই সিলেকশন দেয়া বাবদ ২৫ লাখ টাকা চুক্তি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এ সমিতির আওতাভুক্ত ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র চলতি বছরের জন্য জননী প্রকাশনীর নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই চালানো হবে। চুক্তি মোতাবেক সমিতির সদস্য ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এ প্রকাশনী কোম্পানি হতে সরবরাহ করা হবে। এতে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ কতিপয় নেতা লাভবান হচ্ছেন। আর সেই সঙ্গে লাভবান হচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ। কারণ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে সকল পরীক্ষার প্রশ্ন পাবে জননী প্রকাশনী হতে আর সেই সঙ্গে নগদ লাখ টাকাতো আছেই। প্রত্যেকটা পরীক্ষার আগে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট হতে পরীক্ষার ফিস নেয়া হবে। প্রশ্ন বিনা মূল্যে পাওয়ায় প্রশ্ন করা বাবদ বরাদ্দ টাকা অনায়াসে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পকেটে ঢুকে যাবে। পকেট ভারি করা এসব সুযোগ সুবিধা দিয়েই শিক্ষা বিধ্বংসী শিক্ষকদের ম্যানেজ করে বই ব্যবসায় নামিয়েছে বই প্রকাশনী ব্যবসায়ী যশোরের হাসান বুক ডিপো। যশোরের হাসান বুক ডিপোর জননী প্রকাশনীর নড়াইল জেলা প্রতিনিধি মিলন বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে গত ২৫শে ডিসেম্বর নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির বই সিলেকশন দেয়ার সভা করে। ওই সভা ও সভা শেষে সোনারগাঁও হোটেলে ভূরিভোজের (খাবারের) যাবতীয় বিল পরিশোধ করেন জননী প্রকাশনীর নড়াইল জেলা প্রতিনিধি মিলন বিশ্বাস। আর ওই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ সমিতির আওতাভুক্ত ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালানো হবে জননী প্রকাশনীর নিম্ন মানের নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই। এ ঘটনা জানার পর একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে বই সিলেকশন করানোর কারণে বইয়ের দাম হবে আকাশ ছোঁয়া। এর চেয়ে ডাকাতি অনেক ভালো। যে পরিমাণ টাকা প্রকাশনীর নিকট হতে শিক্ষকরা নিচ্ছেন, তাতে বইয়ের দাম সাধারণ লোকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না। শিক্ষকরা এরকম কসাই হলে গরিব অভিভাবকরা কীভাবে বই কিনবে ? এক সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র এই বই ব্যবসা করার জন্য আলোকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নাকসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে কুপরামর্শ দিয়ে মূল শিক্ষক সমিতি হতে ভাগিয়ে এনে আরেকটি সমিতি করেছেন। সদর উপজেলার দুটি শিক্ষক সমিতি প্রতিযোগিতামূলক ভাবে বই ব্যবসা করছে। আর তাদের শিকার হচ্ছে গরিব অসহায় খেটে খাওয়া দিনমজুর, কৃষক, ভ্যানচালকরা। তাদের পকেটের টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন অসৎ শিক্ষকরা। সবকিছু জেনেও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে জননী প্রকাশনী বা বই ব্যবসায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।