ইজতেমা ময়দানে মসজিদের ছাদ ধসে ৬৪ মুসল্লি আহত
ঢাকা: টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের দক্ষিন পাশে গোডাউনের সামনে বাঁশের খুটি ও লোহার পাইপ দিয়ে নির্মিত টিনের চালা মসজিদ ছাদ ধসে তাবলিগ জামাতের ৬৪ মুসল্লি আহত হয়েছে। আহতের মধ্যে গুরুত্বর ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ২২ জনকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার জুম্মার নামাজের প্রায় ৩০ মিনিট পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার মাওলানা মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের পরপরই ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের স্বার্থে প্রায় ৫ হাজার জামাতবন্ধী ৮০/৯০ হাজার মুসল্লিকে বিভিন্ন মেয়াদে ১ ও ৩ চিল্লায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করা হয়। শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর খাবার খেয়ে প্রায় ৮০টি জামাতের ৮শ মুসল্লি মসজিদের অভ্যন্তরে বসে জামাতে বের হওয়া সংক্রান্ত আলাপচারিতার সময় হঠাৎ পুরো মসজিদের টিনের চালা ভেঙে পড়ে। এতে বিভিন্ন জেলার ৬৪জন মুসল্লি আহত হন। তাদের মধ্যে রমিজ উদ্দিন (৭০) ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে, ইউসুফ আলী (৬৫), চাঁন মিয়া (৬৭) রুস্তুম আলী (৬৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও আবুল কালাম (৬০), মাসুদ রানা (৩৫), রইছ উদ্দিন (৮৫), মোহাম্মদ হোসেন মেম্বার (৬০) ইসমাইল হোসেন (১০০) সহ ২২ মুসল্লিকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মুসল্লিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পুরনো বাঁশ, লোহার পাইপ ও টিনের তৈরি মসজিদটি অযত্ন অবহেলার কারনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রহস্যজনক কারণে দুর্ঘটনার পর পরই ইজতেমা আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল থেকে ভেঙে পড়া মসজিদের টিন, বাঁশ লোহার পাইপ সরিয়ে ফেলেন।
উল্লেখ্য কয়েক বছর আগেও একবার ওই মসজিদটির একাংশ ভেঙে পড়েছিলো বলে স্থানীয় মুসল্লিরা সাংবাদিকদের জানান। ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, জেলা সিভিল সার্জন মো. আলী হায়দার, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ, ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি মো. আক্তারুজামানসহ স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ও টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. জাহিদ আহসান রাসেল টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে আসা আহত মুসল্লিদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের চিকিৎসা সেবায় যাতে কোন প্রকার ত্রুটি না হয় সে জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেকে নির্দেশ দেন।


