English Version
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৭

জলদস্যুদের হামলা জাহাজ মাষ্টার, সুকানীসহ আহত ১২

অনলাইন ডেস্ক
জলদস্যুদের হামলা জাহাজ মাষ্টার, সুকানীসহ আহত ১২

পায়রা বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে যাওয়ার সময় মদিনা গ্রুপের লাইটার জাহাজ এমভি বন্ধু সরদার জলদস্যুদের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে। এ হামলায় মাষ্টার, সুকানীসহ ১২ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার সময় ভোলা এবং বাউফল উপজেলার মধ্যবর্তী তেতুলিয়া নদীর চর ইউনুস এলাকায় এ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জলদস্যুদের রামদার কোপে আহত সুকানী মো. মাঈনুদ্দিন (৪০) এবং মাষ্টার মো. মোশারফ হোসেনের (৩৫) অবস্থা শংকটাপন্ন।

এছাড়া জলদস্যুদের মারধরে সুকানী মো. লিটন মিয়া (২৮), লস্কর সজিব মিয়া (৩৫), লস্কর বুলবুল ইসলাম (২৮), লস্কর মো. আবুল খায়ের (৫৫). লস্কর মো. ইরাক (৩০), স্টাফ আবদুল মন্নান (৪৫), আনোয়ার হোসেন (২৭), পাইলট মো. সিরাজুল হক (৪৫), সুকানী মো. জসিম উদ্দিন (৩৭) এবং লস্কর মো. রিফাত উদ্দিন (৩৪) আহত হয়েছে।

আহতদের সবাইকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপাশা ইউনিয়নের সেনের বাজার এলাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এমভি বন্ধু সরদার জাহাজের পাইলট মো. সিরাজুল হক জানান, মাদার ভ্যাসেল এম ভি এফ এস বিচ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা সমুদ্র বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থান করছে। দেশের অন্যতম ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপ মালায়েশিয়া থেকে এফ এস বিচ জাহাজে করে কিংকার আমদানী করেছে।

মাদার ভ্যাসেল থেকে সেসব কিংকার খালাস করে মদিনা গ্রুপের লাইটার জাহাজ এম ভি বন্ধু সরদারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভোলা জেলা এবং পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মধ্যবর্তী তেতুলিয়া নদীর চর ইউনুস এলাকায় হঠাৎ নামবিহীন একটি বড় ট্রলারে করে এসে প্রায় ১২ জনের একদল জলদস্যু জাহাজ থামিয়ে উঠে পড়ে। ডাকাতদলের সদস্যরা জাহাজে ওঠার পর হাতে থাকা বন্ধুক দিয়ে জাহাজের সুকানী, মাষ্টারসহ সব স্টাফকে জিম্মি করে ফেলে।

এক পর্যায়ে হাতে থাকা রামদা দিয়ে এলাপাতারি কোপাতে থাকে। ডাকাতদের রামদার কোপে সুকানী মো. মাঈন উদ্দিন, মাষ্টার মো. মোশারফ হোসেন গুরুতর জখম হয়। মোশারফ হোসেনের ডান হাতের বাহুর নীচে দুটি কোপ এবং মাঈন উদ্দিনের ডান বাহুতে একটি কোপ লেগেছে। রামদার আঘাতে এ দু’জনের শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়েছে।

মো. সিরাজুল হক আরও জানান, জলদস্যুরা এক ঘন্টা ধরে জাহাজে তান্ডব চালায়। জাহাজের প্রতিটি কক্ষে তল্লাশী করে ১৪ টি মুঠোফোন, জাহাজের মাইক, জিপিআরএস এবং নগদ বেতন-বোনাসের এক লক্ষ্য টাকা লুট করে নিয়ে যায়। জলদস্যুরা জাহাজের রেডিও ভিএইচএফ ভেঙ্গে ফেলেছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম খান ফারুকী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। ওই জাহাজটিতে ১৫ জন স্টাফ ছিল। জলদস্যুদের রামদার কোপে দু’জন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এলাকাটি ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার মধ্যে পড়েছে। ইতিমধ্যে বাউফলের কালাইয়া বন্দরের নৌ-ফাঁড়ির একটি পুলিশ টিম এবং বাউফল থানা পুলিশের একটি টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

তাছাড়া বোরহান উদ্দিন থানায়ও বিষয়টিকে জানানো হয়েছে।