মাদারীপুরে দুই ট্রলারের সংর্ঘষ নিহত ২, নিখোঁজ ১
মাদারীপুর সদর উপজেলার উকিলবাড়িতে বৃহস্পতিবার (২৫ অঅগস্ট) রাত ৮টায় কুমার নদে দু’টি ট্রলারের মুখেমুখি সংর্ঘষে ভানু বালা (৬৫) ও ননি বাড়ৈ (৭০) নামে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা একই উপজেলার ২ বাসিন্দা।
তারা হলেন কলাগাছিয়া গ্রামের ভানু বালা ও রাজৈর আওয়ালা কান্দির ননি বাড়ৈ। এছাড়াও প্রায় ৬৭ জন যাত্রী সাতরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় পাড়ে উঠলেও স্বজনদের দাবি নিখোঁজ রয়েছে আরো ১ নারী। তার নাম সুচন্দ্রা বাড়ৈ। তার খবর এখনো পায়নি তার স্বজনেরা।
তাই তার ফিরে আশা অপেক্ষার আশা বেধে বসে আছেন কুমার নদীর তীরে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ২০জন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় একটি বালুবাহী ট্রলারের সাথে যাত্রীবাহী ট্রলারের মুখোমুখি সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
যাত্রীরা মাদারীপুর শহর থেকে জন্মাষ্টমীর মিছিল শেষে সদর উপজেলার তরমুগরিয়ার হাইকারমার ঘাট থেকে একটি ট্রলারে শতাধিক যাত্রী নিয়ে সদর উপজেলার কলাগাছিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রলারটি উকিলবাড়ি নামক স্থানে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রলারের সাথে যাত্রীবাহী ট্রলারের মুখোমুখি সংর্ঘষে ঘটনা হয়।
এতে যাত্রীবাহী ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়।
৭০জন যাত্রীর মধ্যে প্রায় ৬৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ২ নারী নিখোঁজ থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মস্তফাপুর সুইচগেটের কাছ থেকে ১ নারীর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১ জন। কিন্তু ট্রলারটি এখনো সনাক্ত করা হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহীনির ডুবুরীর ১৩ সদস্যের দল এবং মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে সকাল ১০টার দিকে নৌবাহীনির ডুবুরীর দল ট্রলারটির সন্ধান পেয়ে পাড়ে উঠানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টা পযন্ত সেই ঘাতক ট্রলারটিকে পাড়ে তুলতে পারেনি।
এদিকে মৃতদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা।
খুলনা নৌকমান্ডের কর্মকর্তা লেফট্যান্যান্ট কমান্ডার খাঁজা মাসুম জানান, নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের ২৩ সদস্যের একটি চৌকস টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। বর্তমানে ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
এদিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি ভিতরে তল্লাসি করে নিখোঁজ কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নিখোঁজদের খুঁজতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান বলেন, শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছে তাদের খুব তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে আনা হবে।


