খাবার খেয়ে গোপালগঞ্জে ৩২ ছাত্র অসুস্থ্, ৫ জনের সাজা
নড়াইলের পর এবার গোপালগঞ্জে ৩২ মাদ্রাসা ছাত্র অসুস্থ্ আল-জামিয়াতুল মোহাম্মাদিয়া কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ রেস্টুরেন্ট মালিক আরিফুল ইসলাম মন্টুকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালত খাদ্য সরবরাহকারী রেষ্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে মালিকসহ ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে।
একই সাথে ওই রেস্টুরেন্টের রান্না করা ভুনা খিচুরী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ২ টায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রমানের ভিত্তিতে এ সাজা দেন।
সাজা প্রাপ্তরা হল- মালিক আরিফুল ইসলাম মোল্লা ওরফে মন্টু (২৪), তার বড়ভাই সাইফুল আসলাম মোল্লা (২৮), ছোটভাই শরিফুল ইসলাম মোল্লা (১৪), ম্যানেজার কাইয়ুম মোল্লা (১৮) ও কর্মচারী লিটন শেখ (২৪)।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ী মাঝে মাঝেই এখানকার ছাত্রদের খাবার দিয়ে থাকেন। তারই অংশ হিসাবে সোমবার স্থানীয় রোমাঞ্চ রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার এনে কেরাত বিভাগের ১২৫ জন শিার্থীর মাঝে বিতরন করেন। তাদের জন্য সকালের নাস্তা হিসাবে ভুনা খিচুরী ও ডিম সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
৬০ জন শিশুর মধ্যে ওই খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার খেয়ে বাচ্চাদের পেটে ব্যাথা ও বমি বমি ভাব অনুভুত হয়। পরে তাদের গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃক অবশিষ্ট খাবার পরিবেশন বন্ধ করে দেন।
হাসপাতালে ভর্তি জিহাদ (৯), মাহফুজুর রহমান (৯) সহ অন্য অসুস্থ শিার্থীরা জানিয়েছে, ভুনা খেচুরীর মধ্যে দেয়া ডিমের কুসুম গুলো গন্ধ ও তেতো ছিল। ওই কুসুম খাওয়ার পর আমাদের পেটে ব্যাথা ও বমি বমি ভাব অনুভুত হয়।
কোট মসজিদ মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ আলহাজ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মো. নাজমুল হক বলেছেন, শহরের কোট মসজিদ মাদ্রাসার বেশ কিছু শিশু পেটে ব্যাথা ও বমি বমি ভাব উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী শফিকুল আলম জানিয়েছেন, খবর শোনার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমূনা পরীার জন্য ঢাকার মহাখালি ল্যাবে পাঠানো হবে।


