পৌরসভার বর্জ্যে রাস্তায় পুকুর!
নরসিংদী পৌরসভার আবর্জনায় নরসিংদী-মদনগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শালিধার ২০০ মিটার জায়গায় বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে মানুষ চলাচল। অল্প কিছু যানবাহন চলাচল করলেও পোহাতে হচ্ছে ঝক্কি। তবে সড়কটি চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের শালিধা পৌর বাস টার্মিনালের পর থেকেই নরসিংদী-মদনগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে পৌরসভার আবর্জনা ফেলা হয়। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি সড়ক থেকে আবর্জনার স্তর উঁচু হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা স্থায়ী হওয়ায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ময়লা মিশে সৃষ্টি হয়েছে কাদার স্তর। এতে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ট্রাক, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও রিকশা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি দিয়ে নরসিংদী, মাধবদী ও আড়াইহাজারের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। পাশাপাশি বাবুরহাটের কাপড় এবং নরসিংদী ও মাধবদীর সহস্রাধিক শিল্প-কারখানার মালামাল পরিবহন করা হয়। পাশাপাশি জেলা শহরের প্রবেশের সড়কটি বেহাল অবস্থার কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের কাদার গর্তে আটকে ছিল দুটি মালবাহী ট্রাক। একটিতে সিমেন্ট, আরেকটিতে গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি। চালক ও হেলপার অনেক চেষ্টা করেও ট্রাক দুটি গর্ত থেকে ওঠাতে পারছিল না। সিমেন্টবাহী ট্রাকের চালক আজিজুল মিয়া বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কারখানা থেকে সিমেন্ট নরসিংদী বাজারে নিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গাউছিয়ার যানজট এড়াতে মদনগঞ্জ সড়ক দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বড় গর্তে চাকা আটকে গেছে। যানজট থেকে বাঁচতে গিয়ে এখন আরো বড় বিপদে আছি।’ নরসিংদী থেকে বাবুরহাটে কাপড় নিয়ে যাচ্ছিলেন নছিমন চালক আরমান মিয়া। তিনি বলেন, ‘এটুকু জায়গায় গাড়ি ধইর্যা রাওন যায় না, মনে হয় এই বুঝি গাড়ি উল্টায়া যাইতাছে। আর গাতার মধ্যে পড়লে রক্ষা নাই। হয় যন্ত্রপাতি ভাঙবো, না হয় ইঞ্জিনে পানি ঢুইক্কা বন্ধ হইয়া যাইব।’ স্থানীয় এলাকাবাসী সানোয়ার মিয়া বলেন, সড়কের এই অংশটুকুতে পানির সঙ্গে ময়লা মিশে কাদার স্তর সৃষ্টি হওয়ায় হেঁটে মানুষ চলাচলের সুযোগ নেই। এর পরও কয়েকটি যানবাহন চললেও এর মধ্যে অধিকাংশই গর্তে আটকা পড়ছে। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে এই সড়কে মানুষ ও যানবাহন দুটোই চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নরসিংদী চেম্বারের পরিচালক ও সারা টেক্সটাইল মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সোহেল বলেন, নরসিংদী-মদনগঞ্জ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এ সড়ক দিয়ে নরসিংদী-মাধবদী অঞ্চলের শিল্প-কারখানার মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষও চলাচল করে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির শালিধায় দুর্গন্ধে ও বেহাল দশায় সবাই সীমাহীন কষ্ট পোহাচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের কথা বিবেচনা করে সড়কের দুই পাশে আবর্জনা না ফেলার দাবি জানান। নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাই ইতিমধ্যে এসকেলেটর দিয়ে আবর্জনা সরিয়ে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের কাজও শুরু করা হবে।
সুত্র- কালের কণ্ঠ


