কবিরহাট পৌরসভার দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত, দুই যুবককে কারাদণ্ড
জোর করে ব্যালেট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারার অভিযোগে এনে নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার শামসুল ইসলাম ও প্রিজাইডিং অফিসার এনামুল হক। কেন্দ্র দুইটি হলো ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আলীপুর ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জাল ভোট দেয়ার দায়ে হাতেনাতে ধরে জহিরুল(২০) ও রুবেল (২২) নামে দুই যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাশফিকুল হক। কেন্দ্র দুটির ব্যালট বক্স্রসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী উপজেলা নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে।
পৌনে ১২টায় ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাহিরে ভোট দেয়ার দাবিতে সাধারণ ভোটারেরা বিক্ষোভ মিছিল করছেন।কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানান, অজ্ঞাত কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার শামসুল ইসলাম জানান, এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৪০৫। সকাল ১১টা পর্যন্ত চারটি বুথে ৬শ ভোট নেয়া হয়েছে। সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল লোক বুথের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারতে থাকে। এ সময় ভোট কেন্দ্রে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেন ।
প্রিজাইডিং অফিসার এনামুল হক জানান,দুপুর দুইটার দিকে আলীপুর ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একজন পোলিং এজেন্টের সহযোগিতায় কিছু দূবৃর্ত্ত সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ প্রায় ১০০ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে বাক্সে ঢুকালে ভোট গ্রহণ স্থগিত করি। এসময় কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাশফিকুল হক নেতৃত্বে একটি মোবাইলটিম ছিল তিনি ভোট দেয়ার দায়ে দুই যুবককে ছয় মাসের কারাদন্ড দেন। এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৬১৪। ঘটনার জানাজানি হলে এই কেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর ডালিম প্রতীক মহিন উদ্দিন জাসেদ ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থী চারজন আহত হয়। সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় প্রিজাইডিং অফিসারেরা ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন। লিখিত দিলে বিস্তারিত জানা যাবে।
এর আগে সকাল আটটা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় এক প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন র্যাব সদস্য, পুলিশের তিনটি মোবাইল টিম নিয়োজিত ছিল। এছাড়া পুলিশের ষ্টাইকিং ফোর্স, ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যের একটি পর্যক্ষেক দল কাজ করেছেন।
কবিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এই পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৯৭ জন।


