হবিগঞ্জে শীতে ৫ জনের মৃত্যু
হবিগঞ্জে কুয়াশাসহ কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ পযন্ত জেলায় ঠান্ডায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২ নবজাতক, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ নবজাতক, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ১ নবজাতক ও রমজান আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আবু সুফিয়ান, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুন ও চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সারোয়ার জাহান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াশাসহ কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন মজুর দুই বেলা খাবার তাগিদে কেবল ঘর থেকে বের হচ্ছে। তবে সামথ্যবান জনগনরা ঠাণ্ডার থেকে বাঁচতে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সোমবার ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় শত শত মানুষ হাসপাতালে ভীড় করছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশই হতদরিদ্র জনগন।
তারা আরও জানান, গত শুক্রবার থেকে সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলায় সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশাসহ হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর পরিবারের মধ্য বয়সী ও বৃদ্ধরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ঘন কুয়াশার কারণে যাবাহনগুলোকে দিনের পুরোটা সময়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসক আবু সুফিয়ান বলেন- দুই দিন ধরে হবিগঞ্জে প্রচণ্ড শীত পড়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। তবে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারি পরামর্শ মেনে চললে এবং একটু সতর্ক থাকলেই ঠাণ্ডা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে সূত্র থেকে যানা যায়- বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনেক রোগী সিট না পেয়ে মেঝেতে পড়ে রয়েছে। রোগীদের প্রচণ্ড চাপের কারণে সেবা দিতে ডাক্তার ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। সোমবার ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শুধু হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালেই শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধসহ অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। সোমবার হবিগঞ্জের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


