English Version
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৬ ১১:২১
নৌ-চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায়

অবৈধ বাধ দ্রুত অপসারণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী

ইমরুল কায়েস, বাগেরহাট
অবৈধ বাধ দ্রুত অপসারণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী

প্রায় পাঁচ বছর পর চলতি বছরে সব ধরনের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল শুরু করেছে মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ-চ্যানেল দিয়ে। নিয়মিত ভাবে দেশী বিদেশী নৌযান চলাচল করছে এই চ্যানেলটি দিয়ে। তবে চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষা নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ বিআইডব্লিউটিএ’র কর্তৃপক্ষ। তাই নাব্যতা রক্ষায় চ্যানেল সংযোগে ৩ শতাধিক রেকর্ডীয় খালের অবৈধ বাঁধ দ্রুত অপসারণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।    বিআইডব্লিউটিএ সুত্র মতে, খনন কাজের ৭০ ভাগ শেষ হলে চ্যানেলটি নৌযান চলাচলের জন্য ৪ অক্টোবর উন্মুক্ত করা হয়। তবে চ্যানেলে পলি জমার হার গড়ে ৪০-৪৫% বছর প্রতি। যা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুন বেশি। বর্তমানে মোট ১০টি ড্রেজার মেশিন নাব্যতা ধরে রাখার জন্য খনন কাজ করছে। বিআইডব্লিউটিএ’র মতে খনন প্রক্রিয়া চলমান রেখে চ্যানেলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য আসু ব্যবস্থা গ্রহন করা। এবং আগামী তিন-চার বছরের ভেতর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।

সূত্র মতে আরও জানা যায়, বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষি জমিতে লবন পানি আটকে রাখে। এবং রের্কডীয় খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে বাগদা চিংড়ি চাষ করায় মংলা বন্দরের সাথে সম্পর্কিত মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ-পথেরসহ সংশ্লিষ্ট তিন‘শ নদী ও খালের নাব্যতা হারিয়েছে। জোয়ার-ভাটায় নদীর পানি শাখা খালসহ দু‘পাশের প্লাবন ভূমিতে ওঠা-নামা করতে না পারায় পলি জমে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলসহ প্রধান খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। যত্রতত্র চিংড়ি চাষ নিয়ন্ত্রণ ও নদী-খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধিসহ পুন:খনন করে প্লাবন ভূমি তৈরী না করা গেলে নিকট ভবিষ্যতে এই চ্যানেলটি আবারও বন্ধ হয়ে পড়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।   জেলার রামপাল উপজেলার বাশতলী স্থানীয় প্রবীন মোস্তাফিজুর রহমান, জয়নাল খাঁ, দেবানন্দ হালদার দ্যাঢাকাপোষ্ট.কম প্রতিনিধিকে জানান, অবৈধভাবে চিংড়ি চাষে লবনাক্ততার গ্রাশে ফসলের আবাদ কমে গেছে। চিংড়ি চাষে মুষ্টিমেয় প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও সাধারন মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। চ্যানেল রক্ষার্থে সুন্দরবনসহ এই অঞ্চলের মানুষের কল্যানে প্রভাবশালীদের প্রভাব হতে রেকর্ডীয় খাল মুক্ত করার দাবি জানান তারা।   রামপালে কালীগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক সবুর রানা বলেন, কয়েক দশক পুর্বে এই নৌ-রুট থেকে বড় বড় ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজ চলাচল করতো। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা শাখা খালে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করায় পানির প্রবাহ কমে আন্তর্জাতিক এই চ্যানেলের এই করুন পরিনতি। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে পানির স্তর নেমে গেলে নৌযান চলাচলে যদি বিঘ্ন হবে। ফলে শত কোটি টাকার এই খনন কার্যক্রম বিফল হয়ে পরবে। তাই চ্যানেলকে বাচিয়ে রাখতে বাঁধ অপসারন খুবই প্রয়োজন। অবশ্য এজন্য রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা ও প্রশাসনের কঠোরতা জরুরী বলে মনে করেন তিনি।    রামপাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল জলিল দ্যাঢাকাপোষ্ট.কম’কে বলেন, দীর্ঘ খনন কাজ শেষে চ্যানেল চালু হয়েছে। এজন্য সরকার প্রশংসার দাবিদার। তবে এর নাব্যতা ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের আরও কঠিন হওয়া জরুরী। “নাব্যতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চ্যানেল সংলগ্ন রেকর্ডীয় খালের বাঁধ অপসারনে নির্দেশেও কোন কাজে আসেনি। যেন কোন অদৃশ্য শক্তির কারনে কাজ সঠিক ভাবে শেষ করা যায়নি। কেন শেষ করা হয়নি এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। পাশাপশি চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় বাঁধ অপসারণ, প্লাবন ভূমি তৈরির এই কার্যক্রম সঠিক ভাবে পরিচালনার সেনা বাহিনীর সহায়তার নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম দ্যাঢাকাপোষ্ট.কম’কে জানান, বাঁধ অপসারণসহ সরকারি রেকর্ডভূক্ত খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন অভিযান চালান। এবং ঔই সময়ে তালিকাভূক্ত ৮৩টি খালের ২ শতাধিক বাঁধ অপসারন করা হয়েছে। বাকি কাজ ও স্বল্প সময়ে শেষ হবে। অপসারণের কাজ শেষে আগামী শুকনো মৌসুমে রামপালের ৮৩টি সরকারি রেকর্ডীয় খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   বিআইডব্লিউটিএ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রেজিং) প্রকৌশলী এ. এইচ.  ফরহাদুজ্জামান জানান, আন্তর্জাতিক নৌরুট টি প্রবাহমান রাখার জন্য খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পলি জমায় খনন কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি দ্যাঢাকাপোষ্ট.কমকে আরও বলেন, শুধু খনন করেই এই চ্যানেলটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দরকার চ্যানেল সংশ্লিষ্ট খালগুলো অবৈধ বাঁধ অপসারণসহ পানির প্রবাহ বাড়ানো। যা পলি অপসারণেও সহায়ক হবে। এছাড়া নাব্যতা রক্ষার স্বার্থে বেশকিছু পরিকল্পনা বিআইডব্লিউটিএ কাছে ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছে।    উল্লেখ্য, মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ-রুটটি পলি পড়ে ২২ কিলোমিটার এলাকা নাব্যতা হারালে, ২০১১  সালে নৌরুটটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন খুলনা মংলাসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ভোলা নদী হয়ে নৌযান চলাচল শুরু করে। এতে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র চরম হুমকির মুখে পড়ে। দুইটি ধাপে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বিফলে যায়। এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে ২২ মে থেকে তৃতীয়বারের মতো বিআইডব্লিউটিএ’র প্রায় দুইশত চল্লিশ কোটি টাকা ব্যয়ে এক কোটি ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষে এ নৌপথে খননকাজ শুরু করে।