English Version
আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:৪৫
সূত্র:

‘করোনা’য় চীনের ক্ষতি ৬২ বিলিয়ন ডলার

‘করোনা’য় চীনের ক্ষতি ৬২ বিলিয়ন ডলার

ভয়াবহ করোনাভাইরাসে প্রভাবে নুয়ে পড়ছে চীনের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য; ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চীনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে একের পর এক দেশ, সমুদ্রবন্দর দিয়ে পণ্য বাণিজ্যও বন্ধ রেখেছে দেশটি। ভাইরাস হানা দেওয়ার পর চীনের অর্থনীতির ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব কঠিন হলেও  অর্থনীতিবিদদের মতামত নিয়ে দেশটির সরকারি এক গণমাধ্যম বলেছে, করোনার প্রভাবে এই প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর এ ভাইরাসের প্রভাবে এই প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ পয়েন্ট কমে যেতে পারে।

চীনের সরকার নিয়ন্ত্রিত ট্যাবলয়েড দ্য গ্লোবাল টাইমস ব্যবসা খাতের ভেতরকার তথ্য নিয়ে গত শুক্রবার জানায়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। ভাইরাসের কারণে লুনার নিউইয়ার হলিডের বিক্রি বন্ধ হয়ে পড়েছে, কারখানাগুলোও বাধ্যতামূলকভাবে ছুটি হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

এমনিতেই চীনের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় ছন্দপতন ঘটে আছে। গত অর্থবছর দেশটির প্রবৃদ্ধি তিন দশকের মধ্যে ছিল সবচেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ চলমান রয়েছে, দিন দিন বাড়ছে চীনের দেনার দায়ও। এ সময়ে করোনাভাইরাসের আক্রমণে দেশটির অর্থনীতি ঝিমিয়ে পড়েছে। অবশ্য মন্দা প্রভাব দূর করতে দেশটি কর কমানো, ভোগ ব্যয় বাড়াতে জনগণকে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে ঋণের সুদের হার কমাচ্ছে চীন।

করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে চীনের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে করছে দেশটি। দ্রুত রোগ ছড়ানোর কারণে যেসব ব্যবসা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের জন্য সহায়তা দিতে কাজ করছেন নীতিনির্ধারকরা। ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে চীনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারগুলো। সবচেয়ে নাজুক অঞ্চলগুলোকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের জন্য ঋণের সুদহার কমাচ্ছে প্রধান ব্যাংকগুলো। ব্যাংক অব চায়না বলেছে, উহান ও হুবেই প্রদেশের বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের আয়-রোজগার বন্ধ রয়েছে, তারা ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য কয়েক মাস পর্যন্ত বাড়তি সময় যাবে।

চীনের অর্থনীতিবিদ ঝযাং মিং মনে করেন, ভয়াবহ নির্জীব অর্থনীতি চাঙ্গা করতে আগামী মাসগুলোতে আরও বেশি আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করবে চীন। সরকার কর কমিয়ে জনস্বাস্থ্য ও কর্মী প্রশিক্ষণে ব্যয় বাড়াবে। স্থানীয় সরকারগুলো অবকাঠামো খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করবে। আবাসন, উৎপাদনমুখী শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগে গতি বাড়াতেও নীতি গ্রহণ করা হবে। এসব পদক্ষেপের ফলে পরের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যা গত বছরে অর্জিত ৬ দশমিক ১ শতাংশের চেয়ে কম।