সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর ৫ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী
সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীকে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে অর্জিত আয়ের ওপর কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। এজন্য খুব শিগগির এনবিআর এসআরও জারি করবে। ১ জুলাই থেকেই এটি কার্যকর।
সোমবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা যে রেমিটেন্স পাঠাবে তার ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনাও ১ জুলাই থেকেই কার্যকর। তবে এটি দেয়ার জন্য সিস্টেম দাঁড় করাতে একটু সময় নেয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকার সীমা বেঁধে দেয়ার পরিমাণটা অনেক কম হয়ে যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের বিকল্প হিসেবে আমরা বন্ড মার্কেট নিয়ে আসব। ইন্ডিয়াতে সঞ্চয়পত্রের চেয়ে বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ বেশি। বন্ড মার্কেটটা চালু করতে পারলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীসহ সবাই এতে বিনিয়োগ করে একটা নির্দিষ্ট মুনাফা পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো অপব্যবহার হবে না। তিনি আরও বলেন, আমি চাই মানুষ বন্ড মার্কেটে বেশি বেশি বিনিয়োগ করুক।
বন্ড মার্কেটের অর্থ বছরে হাজারবার লেনদেন হয়। এক্ষেত্রে অর্থনীতি আরও বড় হবে। কিন্তু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে টাকা এক জায়গায় থেকে যায়। এখন পেনশনাররা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন। তবে একটা সময় আসবে তারা নিজেরাই অর্থ সঞ্চয়পত্রে রাখবে না। কারণ, তাদের অন্য জায়গায় বেটার অফার দেয়া হবে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর করের পরিমাণ ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। ২৯ জুন এ বিষয়ে অর্থবিল ২০১৯ পাস হয়। আর প্রবাসীদের জন্য রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানোর ফলে সংসদের ভেতর ও বাইরে সমালোচনা হয়। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের ভেতরে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে করের বিষয়টি এবারের বাজেটেই পাস হয়েছে। প্রথমে পেনশনারদের জন্যই সঞ্চয়পত্রের বিষয়টি আসে। এরপর এটির বিস্তৃতি ঘটে। তবে বিস্তৃতির পর এক্ষেত্রে অপব্যবহার বেড়ে গেছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের সুবিধা গরিব ও পেনশনারদের পরিবর্তে পাচ্ছে ধনীরা। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রে পেনশনারদের ক্ষেত্রে বাজেটের আগেও যে সুবিধা ছিল, এখনও সেটা বলবৎ থাকবে। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী, যারা অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারেন না, তারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করুক, এটা আমরা চাই। কিন্তু এখানে অপব্যবহার হচ্ছে। তাই আমরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনতে চাই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা চাই না যে, মানুষ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করুক। আমরা চাই তারা ব্যাংকে বিনিয়োগ করুক। যেখানে বিনিয়োগ করলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, আমরা সেখানেই বিনিয়োগ নিয়ে যেতে চাই। আর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে স্বচ্ছতা থাকে না।
আমরা তো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে ডাটাবেজ তৈরি করেছি। ডাটাবেজ দেখে নিশ্চিত হব- কে কোথায় কত টাকা বিনিয়োগ করেছে। তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আগে যারা বিভিন্নভাবে সঞ্চয়পত্রে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, তাদের জন্য কোনো শাস্তি কি দেয়া হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেহেতু বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না, এমন কোনো আইন ছিল না, তা হলে কীভাবে তাদের আমরা শাস্তি দেব। তবে এক্ষেত্রে তারা ধরা পড়বে অন্য আইনে। এত টাকা পেল কই? এজন্য তারা দুদকের জালে ধরা পড়বে।
রেমিটেন্স প্রণোদনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেটে রেমিটেন্সের ওপর দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাস হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। ১ জুলাই থেকে যারা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন তাদের ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। তবে প্রণোদনার বিষয়টি ফাংশনালের জন্য কিছু সময় লাগে। সে সময়টাই নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, লিগ্যাল ওয়েতে রেমিটেন্স বাড়ানোর জন্য এ অর্থবছর থেকেই ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হবে। তিনি বলেন, সামনে ঈদ অনেকেই ধারণা করছেন এখন দেশে রেমিটেন্স পাঠালে তারা প্রণোদনা পাবেন না, এটা কিন্তু ঠিক না। যেহেতু বাজেটে পাস হয়েছে সেহেতু এখন রেমিটেন্স পাঠালেও দুই শতাংশ প্রণোদনা ৬ মাস পর হলেও পাবেন।
এখন পাঠালেও পাবেন, পরে পাঠালেও পাবেন। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই যারা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন তারাই ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন। এক্ষেত্রে সিস্টেমটা ডেভেলপমেন্ট করতে আমরা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছি।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স কাটা হবে না। কেউ ১০০ টাকা রেমিটেন্স পাঠালে ১০২ টাকা পাবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্যাক্স বা সার্ভিস চার্জ কাটা হবে না।


