বিজিএমইএ'র প্রথম নারী সভাপতি হচ্ছেন রুবানা হক
বাংলাদেশে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি হচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিণী রুবানা হক।
আগামী ৬ এপ্রিল বিজিএমইএ'র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার সম্মিলিত পরিষদ এবং ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে যে প্যানেল জমা দিয়েছে তাতে মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হককে নেতৃত্বে রাখা হয়েছে। নির্বাচনে যৌথ প্যানেল জয়লাভ করলে ফোরামের লিডার হিসেবে বিজিএমইএ’র প্রথম নারী সভাপতি হবেন রুবানা হক।
এ প্রসঙ্গে রুবানা হক বলেন, 'বিজিএমইএ নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল জমা দিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে আমি আশাবাদী। আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা জোটবদ্ধভাবে শক্তিশালী প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করছি। আমাদের প্যানেলে যারা আছেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত ও যোগ্য নেতা। আমরা পোশাক খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আশা করছি, আমাদের প্যালেন জয়ী হবে।'
তিনি বলেন, 'এখন কলকারখানায় নারী, ব্যবসা বাণিজ্যে নারী, সব জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী। তিনি পুরো দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাহলে আমরা কেন নেতৃত্ব দিতে পারব না? ইনশাআল্লাহ অবশ্যই নেতৃত্ব দিতে পারব। নেতৃত্ব একটি বড় দায়িত্ব। এটি আল্লাহ বুঝেই দিয়ে থাকেন। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক থাকলে এ দায়িত্ব পালন করা কঠিন কিছু নয়।'
রুবানা হক বলেন, 'তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৩০ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করেন। তাদের নিয়ে সব সময় আমি স্বপ্ন দেখি, কিছু করব। তাই তাদের জন্য কিছু করতে চাই। সুযোগ পেলে অবশ্যই করব। কারণ, এখন আর আমার পাওয়ার কিছু নেই। এখন দেয়ার সময়।'
প্রয়াত মেয়ার আনিসুল হকের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'ওনি আমার ৩০ বছরের সঙ্গী ছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। তিনিও বিজিএমইএ নেতৃত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আশা করছি, নির্বাচিত হলে তার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে পারব। একইসঙ্গে বর্তমান সভাপতির উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিতা রক্ষা করব।'
প্রায় পাঁচ বছর পর বিজিএমএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হবে আগামী ৬ এপ্রিল। দুই বছর মেয়াদি পর্ষদের ৩৫টি পরিচালক পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল অনুযায়ী, শনিবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে আগামী ৬ মার্চ।
বিজিএমএমইএ’র নির্বাচন পরিচালনায় বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার শেষ দিন ৫৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে সম্মিলিত পরিষদের মোট ১৭ জন (ঢাকা ১২ জন এবং চট্টগ্রামের ৫ জন) ও ফোরামের ২৩ জন (ঢাকা ১৮ জন এবং চট্টগ্রামের ৫ জন)। অন্যদিকে, স্বাধীনতা পরিষদের ১৮ জন পরিচালক পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা পর্ষদ ঠিক করেছিল। এরপর থেকে আর নির্বাচন না হয়ে তিন ধাপে এই পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়িয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এরপর সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর। তখন নির্বাচন না হওয়ায় মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
২০১৫ সালে দুই প্যানেলের সমঝোতায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মেয়াদে সভাপতি হবেন ফোরাম থেকে। সেই অনুযায়ী ফোরামের শীর্ষ নেতারা সভাপতি পদের জন্য রুবানা হককে নির্বাচিত করেছেন।
এদিকে, সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের আধিপত্য ভাঙতে আলাদাভাবে প্যানেল দিচ্ছে স্বাধীনতা পরিষদ। আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স (ডিএসএল) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এবারের বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৯৫৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৫৯৭ জন। বাকি ৩৫৮ জন চট্টগ্রামের।


