English Version
আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৫৯
সূত্র:

চাহিদা বেড়েছে ডলারের

চাহিদা বেড়েছে ডলারের

চলতি বছরের শুরু থেকে টাকার বিনিময়ে ডলারের দাম বেড়েছে দফায় দফায়। সরকারি-বেসরকারি আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদাও বেড়েছে অস্বাভাবিক। বর্তমানে ঋণপত্রের জন্য আন্তঃব্যাক লেনদেনে ডলারপ্রতি ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা। আর ভ্রমণকারীদের গুণতে হচ্ছে প্রায় ৮৭ টাকা।

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) বলছে, আমদানির চাপে ডলারের চাহিদা বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় সংকট তীব্র হবে না। এ অবস্থায় আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা তা নজরে রাখার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

জানা গেছে, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার। এসব সরকারি প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি বাণিজ্যিক আমদানি মিলে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

একবছরের ব্যবধানে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে প্রতিডলারে দাম বেড়েছে প্রায় ২ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাফেদা ডলারের বড় ধরনের সংকটের আশংকা না করলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন এ অবস্থা চলতে থাকলে বছর শেষে আমদানি রফতানির ব্যবধান আরো বাড়বে।

এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, আমি মনে করি, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের জন্য ব্যালেন্স অব প্রমেন্টে বড় ধরণের চাপ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এটাকে সামলানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে।

কিভাবে আমাদের রপ্তানি আয় এবং রেমিটেন্স আরো বাড়াতে পারি। একটু খতিয়ে দেখা দরকার আমাদানীর বিপরিতে টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে কিনা।

বাফেদা’র চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, এই বছরে মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে। যে কারণে আমদানি বেড়েছে, তার বেশিরভাগই ফরেনে ফেমেন্ট হচ্ছে। তারপরও যেটুকু প্রভাব আমাদের দেশে পড়ছে তার ইতিবাচক একটি ফলাফলও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন ক্যারেন্সির রিজার্ভ রয়েছে পর্যাপ্ত।

গত একবছরে আন্তর্জাতিক পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মুদ্রা ডলারের বিপরীতে ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। তাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন রপ্তানিকারকরা।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ'র সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ডুয়েল ক্যারেন্সিতে ইম্পোর্টের যে একটি প্রাইজ, এক্সপোর্টের যে প্রাইজ তা যদি ভিন্নভাবে রাখা হয় তাহলে ইম্পোর্টের ব্যয় বাড়বে না। আবার এক্সপোর্ট ফ্রেন্ডলি ক্যারেন্সি হলে আমরা সুবিধা অবস্থায় থাকতে পারবো।

খোলাবাজারে কেনাবেচায় ডলারের দাম সবসময়ই ব্যাংকের এলসি রেটের তুলনায় বেশি থাকে। বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ ঘুরে জানা যায় গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছর বেশ ওঠানামা করছে ডলারের দাম।

ম্যানি এক্সচেঞ্জ ব্যাবসায়ীরা বলছেন, এই বছরের শুরুর দিকে ডলারের দাম ৮৪ টাকার বেশি ছিল। আর এখন শেষের দিকে ৮৭.২০ পয়সা করে উঠেছে। ডলার ক্রাইসিস থাকলে রেট বেড়ে যাবে। এখানে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ডলারের দাম বাড়লে তখন অন্য ম্যানি এক্সচেঞ্জ থেকে সংগ্রহ করি। কিন্তু ব্যাংক থেকে পায় না।

চলতি বছর চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ানে ঋণপত্র খোলার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ডলারের ওপর চাপ বেশ কিছুটা কমবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।