পেঁয়াজের ঝাঁজ চড়া, বেড়েছে আদা-ডিমের দাম
আর মাত্র কয়েকদিন পরই কোরবানির ঈদ। আর ঈদকে উপলক্ষ করে রাজধানীর বাজারে দাম বাড়ছে পেঁয়াজের। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে আদা। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয় গত সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার ও মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের এ তথ্য পাওয়া গেছে।রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ নিয়ে গত এক মাসের ব্যবধানে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে দাম বাড়ার এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাওরানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সামাদ বলেন, সাধারণত কোরবানির ঈদে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এজন্য দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। এছাড়া এবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেশি পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। তবে ঈদের পর পেঁয়াজের দর কমে যাবে। দাম বেড়েছে আদারও। গত সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আদায় ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৪০ টাকায়। তবে রসুনের দাম বাড়েনি। শুক্রবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এদিকে সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারে কমতে শুরু করেছে সব ধরনের সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে রাজধানীর বাজারগুলোতে পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাকরোল, ঢেঁরস ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করল্লা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, শশা ৪০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। মহাখালী বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিছার বলেন, বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ছাত্রদের অবরোধে পরিবহন সমস্যায় সবজির দাম বেড়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির সববরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কমতির দিকে। তবে এখনও বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। বর্তমানে প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। যা এক মাস আগেও ছিল ২৮ টাকা হালি। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাছের দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি রুই, কাতলা ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫’শ থেকে ৬’শ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৫৫০ টাকায়। কাওরানবাজারের মাছ বিক্রেতা বেলায়েত বলেন, জেলেদের জালে ইলিশ ধরা দিতে শুরু করেছে। এ বছর প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে বলে মোকামের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এতে কম দামে ইলিশ খেতে পারবেন ক্রেতারা।


