‘ঋণের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নয়’
ঢাকা: ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে কেউ যাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে না পারে তার জন্য কঠোর নজরদারি’ করা আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির।’
রোববার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নর একথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজার ২০১০ সাল থেকে বিরাজমান মন্দা প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার যে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে তা যেন সুস্থ ধারায় থাকে। এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারি করতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিক থেকেও তাদের গ্রাহকদের নেওয়া বিভিন্ন ঋণ সঠিক খাতে যথাযথ ব্যবহার হয় কি না সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। ঋণের টাকা যাতে পুঁজিবাজারে না চলে যায় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘‘পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অতীতের মতো এবারও ‘প্রলুব্ধ ক্ষুদ্র’ বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।’’
ফজলে কবির বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুঁজিবাজারের আকার বাড়ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদান ১৫ শতাংশ। এটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ উত্তোলন হ্রাস ব্যক্তি খাতের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগান সুগম করেছে। ব্যক্তিখাতের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগান সুগম হলেও তা বাজারভিত্তিক নয়; এমন সুদ হারে বিক্রিত সরকারি সঞ্চয় স্কিমগুলোর আওতায় ব্যাপক পরিমাণ সরকারি অর্থায়নের এ প্রবণতা দেশে বন্ড বাজার বিকাশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।’
অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, এসএম মনিরুজ্জামান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ছিলেন।


