English Version
আপডেট : ১ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:০৪

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৭ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০১৭ উদ্বোধন
শনিবারের ছবি-রহমান

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপী ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, পূর্বাচলে ৬০ বিঘা জমির উপর স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কেন্দ্র তৈরির কাজ শিগগিরই শুরু হবে। চীনের অর্থায়নে আগামী ২০১৯ নালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

তিনি আরো জানান, এ বছর ২১টি দেশ (বাংলাদেশসহ) মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় বাংলাদেশ ছাড়া যে সকল দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশগ্রহণ করছে সেগুলো হলো-ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, নেপাল, হংকং, জাপান, ভুটান, বাহরাইন, ভিয়েতনাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এর আগে শনিবার ২২তম বাণিজ্য মেলা আয়োজন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ১৩ লাখ ৭৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এবারের মেলাস্থল। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এবারের মেলায় প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে (পূর্ববর্তী ৩ বছরের মতো) প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জন প্রতি ২০ টাকা।

এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল-প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৮০টি। মেলা মাঠে একটি ই-শপ, দুটি শিশু পার্ক, তিনটি রক্তসংগ্রহ কেন্দ্র, তিনটি মা ও শিশু কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্পটে বাগান তৈরি করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ এবং আনসার ও বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্স সদস্যদের জন্য দুটি ডরমেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ জানান, বাণিজ্যমেলা থেকে ২০১০ সালে ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার, ২০১১ সালে ২৫ কোটি টাকার, ২০১২ সালে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি টাকার, ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার, ২০১৫ সালে ৮৫ কোটি টাকার এবং ২০১৬ সালে ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের বাণিজ্যমেলায় রফতানি আদেশ আরও বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব, আনসার এবং বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্স মোতায়েন থাকবে। গত মেলার মতো এবারও মেলায় ১৪০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। ইপিবি'র ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।