English Version
আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৬ ১৪:৫০

বিশ্বে স্থিতি থাকবে গমের বাজার

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বে স্থিতি থাকবে গমের বাজার

চলতি বছর স্থিতিশীলতা অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছে বৈশ্বিক গমের বাজার। বাড়তি উৎপাদনের জোরালো সম্ভাবনা ও পর্যাপ্ত মজুদের কারণে গমের দাম ও সরবরাহ দুটিই স্থিতিশীল হয়ে ওঠার ইঙ্গিত।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এফএওর মতে, বৈশ্বিক গমের মজুদ বর্তমানে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে এ মজুদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে এর বৈশ্বিক ব্যবহারও থাকবে নিম্নমুখী। এর কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পশুখাদ্যে এর চাহিদা কমে আসার কথা জানিয়েছে এফএও। বিভিন্ন দেশের কৃষকরা বর্তমানে পশুখাদ্যে ব্যবহারের জন্য গমের পরিবর্তে ভুট্টা আবাদকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

এদিকে ২০১৬-১৭ মৌসুমে বৈশ্বিক গম উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়েছে এফএও। এর পরও বাড়তি মজুদের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দানাদার খাদ্যশস্যটির সরবরাহ থাকবে পর্যাপ্ত। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী মোট ৭২ কোটি ৪০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে, গত বছরের তুলনায় যা ১.৪ শতাংশ বা ১ কোটি টন কম।

এফএওর প্রতিবেদনে ২০১৬-১৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গমের মোট ব্যবহার চলতি মৌসুমের চেয়ে সামান্য হ্রাস পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আগামী মৌসুমে দানাদার খাদ্যশস্যটির বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়ে ৭১ কোটি ৮৩ লাখ টনে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে এফএও।

এ সময় বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খাদ্য শিল্পেরও বিকাশ ঘটতে যাচ্ছে। আর এতে গমের ব্যবহার বাড়বে পরিমিত হারে। এর বিপরীতে পশুখাদ্যসহ অন্য শিল্প খাতগুলোয় ২০১৬-১৭ মৌসুমে পণ্যটির ব্যবহার সংকুচিত হয়ে আসবে।

চলতি ও আগামী বছরে বৈশ্বিক গমের উৎপাদন ও ব্যবহারের পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে আগামী মৌসুমে পণ্যটির মজুদ বাড়িয়ে তোলার প্রবণতা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছে এফএও।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বৈশ্বিক গমের মজুদ দাঁড়াতে পারে ২১ কোটি ৫৫ লাখ টনে। অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় আগামী বছর বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্যটির মজুদ বাড়তে যাচ্ছে ২.৪ শতাংশ।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক গমের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সামান্য পরিমাণে সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছে এফএও। কয়েকটি দেশে বাড়তি আমদানির কারণে ২০১৬-১৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী কৃষিপণ্যটির মোট কেনাবেচার পরিমাণ সামান্য বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ কোটি ৫০ লাখ টনে।