রিজার্ভ লোপাটে সুইফট দায়ী
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লোপাটের ঘটনায় সুইফট দায়ী বলে মনে করেন সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ড. ফরাস উদ্দিন। রোববার (১৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, ২০১৫ সালের ৮ মার্চ সুইফট বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পত্র দেয়। সে পত্রে আরটিজিএস সাথে সুইফটের তাৎক্ষণিক সংযোগ দিতে বলা হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অসতর্কতা, অজ্ঞতা ও দায়িত্ব জ্ঞানহীনভাবে তা অনুমোদন করে। যা পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সংযোগ দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার চালু রাখতে বলে তারা। অথচ এর জন্য যে প্রযুক্তি সহযোগিতা প্রয়োজন তা করা হয়নি। সে সংযোগের পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে প্রবেশ করার একটি বিশেষ ম্যালওয়ার তৈরি করা হয়েছে।
যা থেকে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার ডাকাতি করা হয়। এর দায় বর্তায় সুইফেটের ওপর। কারণ সুইফট বিশ্বব্যাপী একটি সুরক্ষিত আর্থিক নিরাপত্তাদানকারী প্রতিষ্ঠান।
ড. ফরাস উদ্দিন আরও বলেন, এ ঘটনায় ফেডেরও কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। কারণ ৩৫টি অর্ডারের মধ্যে পাঁচটি অর্ডার কার্যকর করা হয়। এ পেমেন্টে দিবে কিনা তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বার্তা প্রেরণ করে ফেড। অথচ ফিরতি ম্যাসেজ না পেয়েই পেমেন্ট কার্যকর করা হয়। তাই তাদেরও দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই।
ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয় বলে তদন্ত কমিটি মনে করে। এক্ষেত্রে তাদের চরম দ্বায়িত্ব জ্ঞানহীন ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সরকারের সমন্বিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অন্তত ৫ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


