English Version
আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ২০:১৭

অর্থ চুরি: তিন দেশের হ্যাকাররা জড়িত

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থ চুরি: তিন দেশের হ্যাকাররা জড়িত
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের পেশাদার হ্যাকাররা জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
হ্যাকিংয়ের সময় তারা একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তথ্যের আদান-প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ থেকে যে হ্যাকার গ্রুপ জড়িত, তারাই প্রথমে ডাটা সরবরাহ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে এ ঘটনার তদন্তকারী রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল।
 
ডাটা সংগ্রহের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের হ্যাকাররা অনলাইনে গ্রুপ কলিং করার মাধ্যমে তাদের হ্যাকিং প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না হ্যাকিংয়ের সঙ্গে আরও অন্য কোনো দেশের হ্যাকার গ্রুপ জড়িত কিনা। তদন্তের গভীরতার সঙ্গে তাও সামনে চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিন দেশের এই হ্যাকারদের সঙ্গে ফিলিপাইনের রিজ্যাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) একাধিক কর্মকর্তার যোগাযোগ রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে ওই ব্যাংকের কর্মকর্তারা লেনদেন সম্পন্ন করার ব্যাপারে যে ভূমিকা রেখেছেন তা পরিষ্কার। আর কোনো তথ্য আদান-প্রদানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
 
এদিকে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে কিনা, তাও আমলে নিচ্ছে তদন্তকারী বিভিন্ন সংস্থা। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে সদ্য পদত্যাগী গভর্নর ড. আতিউর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে তদন্তকারীদের কাছে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ও ডিলিং রুমের দায়িত্বে থাকা কোনো কোনো কর্মকর্তার অবহেলাও ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো সার্ভার সিস্টেমকে নতুন সফটওয়্যার ফায়ারআইয়ের আওতায় এনে তা নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।  এক্ষেত্রে একদিকে যেমন নতুন করে এ্যান্টি হ্যাকিং সিস্টেম শক্তিশালী হচ্ছে অন্যদিকে হ্যাকিংয়ের ধরন ও সময়সহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ওই ফায়ারফাইয়ের মাধ্যমে।
 
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাকিংয়ের সময় প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ভাইরাস (ম্যালওয়্যার) ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রভাবে সার্ভারের আওতায় পরিচালিত কম্পিউটার ও ডিলিং রুমের কম্পিউটারগুলোতে স্ক্রিন সেভারের মতো এক ধরনের ডায়ালগ বক্স শো করে। যা হয়তো খালি চোখে দেখা যায় না। যা ভাইরাসের আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জেনেশুনে কিংবা অজান্তেই ওই সেভারে বা ডায়ালগ বক্সে ক্লিক করায় ওই ম্যালওয়্যার সব কম্পিউটারে সেভ হয়ে যায় এবং ওই কম্পিউটারগুলোতে সংরক্ষিত সব ধরনের ডাটা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যা একই সঙ্গে তিন দেশ থেকেই পর্যবেক্ষণ করে হ্যাকাররা। এ প্রক্রিয়া প্রায় তিন থেকে চার মাস চালিয়ে যায় ওই হ্যাকার গ্রুপ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ও ডিলিং রুমের দৈনন্দিক কাজকর্মও পর্যবেক্ষণ করে হ্যাকার গ্রুপ।
 
সূত্র জানায়, পরবর্তীতে লেনদেন সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে তারা ফেডারেল রিজার্ভে মেসেজ পাঠায় এবং তা গ্রহণযোগ্য করতে একাধিকবার অনলাইনে বার্তা পাঠায়। এরই মধ্যে ফিলিপাইনের রিজ্যাল ব্যাংকের জুুপিটার শাখায় অন্য একটি হিসাবও খোলা হয়। পরে কিছু পরিমাণ অর্থ রিজ্যাল ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওই ব্যাংকের হিসাবে জমা করা হয়। যা ইতিমধ্যে ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সন্তোষ দিগুইতো স্বীকার করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করানো হয়েছে। এ বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
তবে রাকেশ আস্তানার প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ফিলিপাইনের হ্যাকারদের সঙ্গে দিগুইতোর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকার গ্রুপটি সময়মতো বার্তা পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যক্রমের তথ্য আদান-প্রদান করে এ দেশের হ্যাকার গ্রুপের সঙ্গে। তিনটি গ্রুপই বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহূত সুইফট কোডের বার্তা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে তিন দেশেই ছুটির দিন পড়ায়।