English Version
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:১৭

নির্দেশের পরও কমেনি ভোজ্যতেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্দেশের পরও কমেনি ভোজ্যতেলের দাম

ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমলেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে ৫ টাকা হারে কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তারা বলছেন, সরকারি ঘোষণার আগেই ভোজ্যতেলের দাম খুচরা পর্যায়ে লিটারে গায়ের মূল্যের চাইতে গড়ে দুই টাকা করে কম দামে বিক্রি হতো। এখন গায়ের দামে ৫ টাকা কমানো হলেও গ্রাহক পর্যায়ে মূলত দুই থেকে তিন টাকা কমেছে।

রাজধানীর কাওরানবাজারসহ ছোট-বড় কয়েকটি বাজার ও এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বড় বাজারে সরকার ঘোষিত ৫ টাকা কমানো হলেও অলিগলির দোকানে সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে খোলা তেলের দামও ৫ টাকার স্থলে কমেছে দুই থেকে তিন টাকা। এ পরিস্থিতিতে সরকারের মনিটরিং আরো জোরদার করার দাবি ভোক্তাদের।

রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, সরকারের নির্দেশ থাকলেও ভোজ্যতেলের দামে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। এই এলাকায় আগেই লিটারে ২ থেকে ৩ টাকা কমে ১০১ টাকা লিটারে তেল ৯৮ বা ৯৯ টাকায় বিক্রি হতো। এখন গায়ের দামে ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে একই এলাকার আরেক ভোক্তা বলেন, খোলা তেলের দাম কমেছে ২ টাকা। ৫ টাকা কমেনি।  গলির দোকান ও বাজার ঘুরে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে।
 
অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করে একটি বড় ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সব সময় দাম হিসাব করতে হবে পণ্যের প্যাকেটে লেখা দামে। আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা কম দামে বিক্রি করতো তাদের কমিশন বা লাভের কিছু অংশ ছাড় দিয়ে। সেটি এখানে বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। মন্ত্রীর ঘোষণার পর আগের চাইতে প্যাকেট কিংবা বোতলের গায়ে ৫ টাকা কমানো হয়েছে কিনা সেটি দেখতে হবে। বড় বড় সব কোম্পানিই ঘোষণা অনুযায়ী দাম কমিয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে।
 
গত ১৪ জানুয়ারি সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সব ধরণের ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দাম কমানোর ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ভোজ্যতেলের আমদানিকারক সমিতি তেলের দাম লিটার প্রতি চার টাকা কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয়। তবে আমি অনুরোধ করি তারা যেন দাম পাঁচ টাকা কমায়।
 
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট ছাড়া গত বছরের জুলাই থেকে প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে ভোজ্যতেলের দাম। ভোক্তারা বলছেন, সেই হিসেবে পরিশোধন, পরিবহন এবং পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর মুনাফা বাদ দিয়ে প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম হওয়ার কথা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।