English Version
আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৪৩

৪৮৫৮ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৮৫৮ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক

৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৮৫৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার ২০৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, ভূমিকম্পের ভয়াবহতার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবন রক্ষার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সরকারি অনেক ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো রেট্রোফিটিং এর মাধ্যমে ভূমিকম্পসহনীয় করে গড়ে তোলা যায়, যা পুনর্নির্মাণ করলে নতুন করে নির্মাণের চেয়ে ব্যয় অনেক কম। এই বিবেচনায় সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ ভবনের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনগুলোকে এ প্রকল্পের আওতায় রেট্রোফিটিং করার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ও এর আশেপাশে যেসব ফায়ার স্টেশন রেট্রোফিটিং করা হবে সেগুলো হচ্ছে- খিলগাঁও ফায়ার স্টেশন, মিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতর, তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন, ডেমরা ফায়ার স্টেশন, কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশন, লালবাগ ফায়ার স্টেশন, সাভার ফায়ার স্টেশন, বারিধারা ফায়ার স্টেশন, ধামরাই ফায়ার স্টেশন স্টেশন এবং কেরানীগঞ্জ ফায়ার স্টেশন।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টি সুপার স্পেশালাইজড হলে জনগণের চাহিদা পূরণে স্বাস্থ্য সেবার আওতা বৃদ্ধি পাবে। মেডিকেল কেয়ার ও ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেন্টার বেজড হেলথ কেয়ার ডেলিভারি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা, দেশেই জটিল রোগের উন্নত সেবা নিশ্চিত করে বিদেশ নির্ভরতা কমানো, উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা খাতের পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানো, দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্লিনিক্যাল রিসার্চের মাধ্যমে ইভিডেন্স বেজড মেডিসিন চালু এবং কার্যকর রেফারেল লিংকেজ তৈরি করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে দুটি বেজমেন্টসহ একটি ১৩তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। সেই সাথে হাসপাতালের জন্য আধুনিক মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সংগ্রহ করা হবে।

বৈঠকে টাঙ্গাইলে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া ২৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, ৯০৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিতাস গ্যাস ফিল্ডে গ্যাস উদগীরণ নিয়ন্ত্রণ এবং এ ফিল্ডের মূল্যায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্প; ৬১৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; ২৫৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প; ৫৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরাঞ্চলের ভবন সুরক্ষা প্রকল্প; ১৪৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্প; ১০৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর (বদরপুর) সালথা-সোনাপুর-মুকসুদপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।