সোয়েটার কারখানায় ওয়াশিং প্লান্ট ইটিপি ছাড়াই
ওয়াশিং ও ডায়িংয়ের কাজ না থাকায় সোয়েটার কারখানাগুলোকে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে এ সুযোগের অপব্যবহার করছে অনেক সোয়েটার কারখানা। এসব কারখানার ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াশিং প্লান্ট। কোনো ধরনের পরিশোধন ছাড়াই বর্জ্য বের হচ্ছে; মারাত্মক দূষণ ঘটছে পরিবেশের। পরিবেশ অধিদফতরের পরিদর্শনে এ রকম বেশকিছু ঘটনা ধরা পড়েছে। এজন্য এসব কারখানাকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।
আশুলিয়ায় একই কম্পাউন্ডে ডাইনেস্টি গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান ডাইনেস্টি সোয়েটার (বিডি) লিমিটেড ও মিলেনিয়াম সোয়েটার লিমিডেট। গত ৫ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের এনফোর্সমেন্টের পরিদর্শক দল সেখানে ইটিপি ছাড়াই ওয়াশিং প্লান্ট দেখতে পায়। এজন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও নোরাড, ইউকেএইড, ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, বিজিএমইএর সমন্বিত পরিদর্শনে ‘উন্নত পরিবেশ রক্ষাকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে সম্মাননা পেয়েছে মিলেনিয়াম সোয়েটার লিমিটেড।
এর আগে গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি সামার ড্রেস লিমিটেডের কারখানায় ইটিপি ছাড়া ওয়াশিং কার্যক্রম দেখতে পায় পরিদর্শক দল। পরিবেশ দূষণের দায়ে ৫ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্যানাস নিটেড ক্রিয়েশনস লিমিটেডের সোয়েটার কারখানার অভ্যন্তরেও ইটিপি ছাড়া ওয়াশিং কার্যক্রম খুঁজে পায় পরিদর্শক দল। পরে ওই বছরে ২৬ ফেব্রুয়ারি জরিমানা করা হয় ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭২০ টাকা। প্রতিষ্ঠানগুলো বিজিএমইএর নিবন্ধিত।
জানতে চাইলে ডাইনেস্টি গ্রুপের ব্যবস্থাপক (এইচআর) মো. শফিউজ্জামান বলেন, ‘নিটওয়্যারে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র লাগে না। এখন পরিবেশ অধিদফতর যেহেতু বলছে, সেহেতু ইটিপি নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখছি। যদিও ওয়াশিং কারখানার জন্য ইটিপি প্রয়োজন হয় না, তবু এখন তা করতে হবে।’
জানা গেছে, আগে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় পোশাক ও সোয়েটার প্রস্তুত খাতের কারখানায় ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল। তবে সোয়েটার কারখানা মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা প্রত্যাহার করা হয়। তাদের যুক্তি ছিল, ডায়িং ও ওয়াশিংয়ে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার হয় না; ইটিপির প্রয়োজনীয়তা না থাকায় ছাড়পত্র শুধুই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০০৭ সালে এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা থেকে ‘পোশাক ও সোয়েটার প্রস্তুত’ খাতকে পরিবেশ ছাড়পত্র থেকে বাদ দেয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়াশিং কারখানার জন্য ইটিপি স্থাপন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে সোয়েটার কারখানা হওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এ খাতের বহু প্রতিষ্ঠান। তফসিলবহির্ভূত হওয়ার ফলে ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা না থাকায় ইটিপি স্থাপনে আগ্রহ দেখায়নি কেউই। একটি কমপ্লায়েন্ট কারখানায় ওয়াশিংসহ সব ধরনের কার্যক্রম থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ছাড়পত্র থেকে অব্যাহতি দেয়ায় অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, আলাদাভাবে নিবন্ধিত না হওয়ায় সোয়েটার কারখানার অভ্যন্তরে ওয়াশিং প্লান্ট খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পানির রঙের সূত্র ধরে এসব কারখানার তথ্য পেয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে পরিবেশ অধিদফতর। পরিবেশ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কাজী সারোয়ার ইমতিয়াজ হাশমী বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পোশাক ও সোয়েটার কারখানাকে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা থেকে বাদ দেয়া হয়। বর্তমানে বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। মালিকপক্ষের অনেকেই চাইছেন; আমরাও ভাবছি গার্মেন্ট ও সোয়েটার কারখানাকে পরিবেশগত ছাড়পত্রের মধ্যে আনার।
তিনি জানান, তফসিলবহির্ভূত হলেও পরিবেশ অধিদফতরের কার্যক্রম থেমে নেই। যেসব প্রতিষ্ঠান ইটিপি ছাড়া ওয়াশিং প্লান্ট পরিচালনা করছে, তাদের খুঁজে বের করে জরিমানা করা হচ্ছে।
বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সোয়েটার কারখানায় ওয়াশিংয়ের যে উপকরণ ব্যবহার হয়, তার মধ্যে বেশকিছু পরিবেশ দূষণ করে। বর্তমানে শিল্পায়নে কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনার যে তোড়জোড় চলছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সোয়েটার কারখানার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র বাধ্যবাধকতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ছাড়পত্র নিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।’


