উৎসবের আমেজ উদ্যানে
দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিতে সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
মাথায় লাল সবুজের ক্যাপ, গলায় লাল সবুজের মাফলার, তাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলের আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি, গলায় ডেলিগেট-কাউন্সিল কার্ড ঝুলিয়ে, হাতে উপহার সামগ্রীর ব্যাগ নিয়ে নানা ঢংয়ে নানা রংয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করছেন নেতাকর্মীরা।
'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’-এই শ্লোগানকে ধারণ করে শুক্রবার বিকেল ৩টায় দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রবেশগেটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে নেতাকর্মীরা প্রবেশ করছেন খুব ধীর গতিতে।
গোপালগঞ্জ কাশিয়ানি থেকে এসেছেন কবির হোসেন। যেখানেই সম্মেলন হয় সেখানেই যান তিনি। হাতে মাইক নিয়ে দলীয় প্রচার করেন আর নৌকার ব্যাচ বিক্রি করেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় নৌকার প্রচার করে থাকেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা থেকে পরিবার নিয়ে সম্মেলনে এসেছেন মো. আকরাম হোসেন। যেখানে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় সেখানেই মাথায় নৌকা নিয়ে হাজির হয়ে যান শেখ হাসিনা পাগল এই ভক্ত। এবার পরিবারের আবদার মেটাতে পুরো পরিবার নিয়ে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন চলে এসেছেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বরাবরের মতো মাথায় আছে সেই নৌকা।
গাজীপুর থেকে সম্মেলনে অংশ নিতে গলায় কাউন্সিলর কার্ড ঝুলিয়ে সম্মেলনে এসেছেন অ্যাডভোকেট শামসুল আলম। সম্মেলনের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তৃণমূল চাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এমন নেতা আসুক যে নেতা তৃণমূলের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে এবং তৃণমূলকে মূল্যায়ন করবে।’
কুষ্টিয়া জেলা থেকে আসা কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা প্রত্যাশা করেন, আগামীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতারা আসবে, যারা হবে ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী।
তিনি বলেন, ‘অনেক নেতা আছে যারা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে পদ পাওয়ার পর তৃণমূলের কথা ভুলে যায়। ভবিষ্যতে যারা কমিটিতে থাকবেন তারা যেন তৃণমূলের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনে। কারণ, তৃণমূল নেতাকর্মীই হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রাণ।’
নেতাকর্মীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা এবং দলে তার অপরিহার্যতার কারণে রেকর্ড নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। তবে সাধারণ সম্পাদককে হচ্ছে তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। সাধারণ সম্পাদক পদটি এবার সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে রাখছেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনে নিয়ে নেতাকর্মীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুণ। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এবার আলোচনায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় সদস্য আজমত উল্লাহ খান।


