দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারেকের নয়া সিদ্ধান্ত
শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ায় ১৩ দিনের মাথায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। সোমবার জোট থেকে বেরিয়ে গেছে আন্দালিভ রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।
জোট থেকে পার্থের বের হয়ে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার জন্য বিএনপিকে হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
মঙ্গলবার তিনি বিএনপিকে ২৩ মে পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছেন। এর ব্যতয় হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন ইরান।
অন্যদিকে, ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি সবাইকে অবাক করে দলের পাঁচ সংসদ সদস্যের শপথ নেয়াকে কেন্দ্র করে নিজ দলেও এক ধরনের হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদলের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্যে বিষোদগার করছেন জ্যেষ্ঠ নেতাদের। দলীয় ফোরামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কেন্দ্রে নেতায় নেতায় সৃষ্টি হয়েছে দূরত্ব। জ্যেষ্ঠ বেশ কয়েকজন নেতা এ ঘটনার পর মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ রাগে ক্ষোভে অভিমানে দলের ঘরোয়া কর্মসূচিতেও যোগ দিচ্ছেন না। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা একে অপরকে দুষছেন। এমতাবস্থায় ভেঙে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
দলের চরম দুঃসময়ে সিনিয়র নেতাদের দোষারোপের কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাপ্তাহিক বৈঠকও কোনো কারণ ছাড়া বাতিল হয়ে গেছে। বিষয়টি হাইকমান্ডের নজরে পড়েছে। তাই জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে দলকে এক সুতায় গাঁথতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
এ লক্ষ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব পাওয়ার পর রোববার দুই নেতা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এতে দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গেও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল।
দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পর্যায়ক্রমে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পর যত দ্রুত সম্ভব ডাকা হবে স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সেখানে তারেক রহমান শীর্ষ নেতাদের শপথের বিষয়টি অবহিত করবেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুলও বৈঠকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ দেশের শীর্ষ স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পাঁচ এমপির শপথকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তৃণমূলেও সেই ছোঁয়া লেগেছে। বিএনপি হাইকমান্ডের উচিত দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া। এ উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বিএনপিতে আরো অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।


