English Version
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:৫২

চালের চালবাজি বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান শরীকদের

অনলাইন ডেস্ক
চালের চালবাজি বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান শরীকদের

গত দুই সপ্তাহে কয়েক দফায় অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তিন বেলা খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। দেশে এর আগে কখনোই চালের এমন উর্ধ্বমূল্য দেখা যায়নি। আর এই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেগুলো তেমন কার্যকর হয়নি। ফলে সরকারকে এক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জোট শরীকরা।

হাওরে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির পর গত কয়েক মাস ধরেই চালের দাম বাড়তে শুরু করে। পরে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চালের আমদানি শুল্কও কমিয়ে দেয সরকার। কিন্তু গত ঈদের ছুটির অজুহাতে দুই সপ্তাহ ধরে লাগামহীন ভাবে বেড়েছে চালের দাম। চালের এই উর্ধ্বমূল্যের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মজুদদারদের দায়ী করা হচ্ছে। মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সচিবালয়ে চাল ব্যবসায়ী, মিল মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তিনজন মন্ত্রী দুইদিন বৈঠকও করেছেন। এমনকি মজুদদারদের ধরতে সব জেলার ডিসিদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, এরপর বিভিন্ন জেলায় অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের পরও চালের বাজারে এখনো স্বস্তি ফিরে আসেনি। মঙ্গলবার ব্যবসায়ীরা সরকারকে চালের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরদিন বাজারে একই চিত্র দেখা গেছে। খোদ সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার কাওরান বাজার, বাদামতলী বাজার, শ্যামবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, মিরপুর বাজারসহ রাজধানীর অন্যান্য বাজারে সরু চাল, নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৬২-৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নিম্নবিত্তের মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা, চায়না ইরির দামও ৫০ টাকার উপরে রয়েছে; পাইজাম, লতা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে বাজারের চিত্র আরও খারাপ বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। চালের এই উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন সরকারের শরীক ১৪ দলের নেতারা। তারা বলছেন, সরকার কঠোর হলে চালের দাম স্বাভাবিক হয়ে ওঠবে। এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, চালের দাম যেভাবে বেড়েছে সেটি মানুষের উপর অনেক চাপ সৃষ্টি করেছে। এটি জরুরিভাবে গুরুত্ব দিয়ে লাঘব করতে হবে। তিনি বলেন, চালের দাম কমাতে সরকার আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। আমি মনে করি, সরকার কঠোর থাকলে কয়দিনের মধ্যেই চালের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের (একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়াও সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবর্তন ডটকমকে এই নেতা বলেন, এটি মানুষের জন্য একধরণের ভোগান্তি। এক্ষেত্রে সরকারকে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে দাম কমে যাবে। শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার বাইরে তো কোনো বিকল্প নেই এখন। এক্ষেত্রে ম্যানেজম্যান্টের যে দুর্বলতা ছিল, গুরুত্ব দিয়ে সেটিকে ঠিক করতে পারলে পরবর্তীতে আরও এ ধরণের ঘাটতি দেখা যাবে না। সরকারের আরেক শরীক গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যথাযথভাবে চাল আমদানিসহ নানা পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে। আমি মনে করি, খাদ্যমন্ত্রীও সেটি বলেছেন- একটি সিন্ডিকেট চালের বাজারকে অস্থিতিশীল করছে। এর সাথে অনেকেই জড়িত, তারাই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সিন্ডিকেটকে আরও নজরদারির মধ্যে এনে চিহ্নিত করতে হবে। যারা মজুদদারি করছে, ষড়যন্ত্র করছে; তাদের চিহ্নিত করতে হবে। শাহাদৎ হোসেন বলেন, দেশে চালের অভাব নেই। এখন এই চক্রকে প্রটেক্ট করতে পারলে সংকটটা কেটে যাবে। কুষ্টিয়ায় ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হয়েছে, এটি করতে পারলে অল্পদিনেই চালের দাম কমে আসবে। এর আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এ বিষয়ে পরিবর্তন ডটকমকে বলেছিলেন, চাল নিয়ে একটি চক্র চালবাজি করছে। সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।