English Version
আপডেট : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৩৯

শক্ত প্রার্থী নেই বিএনপিতে

অনলাইন ডেস্ক
শক্ত প্রার্থী নেই বিএনপিতে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন নির্বাচনী মাঠ সরগরম। সারা দেশের মতো পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদকে উপলক্ষ করে আগাম শুভেচ্ছাসংবলিত বিভিন্ন ধরনের পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন বাউফলের বিভিন্ন অলিগলিতে। সেই সঙ্গে প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং নিজ দলের কর্মিসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন সক্রিয়ভাবে। এসব কিছুর লক্ষ্য আগামী নির্বাচনের টিকিট বাগানো। মাঠের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ব্যস্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে লবিংয়ে। এসব লবিংয়ের একটাই লক্ষ্য- দলের টিকিট পেতে সুপারিশ নিজের পক্ষে আনা।

প্রার্থীর বাইরে জনসাধারণের মাঝেও নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা। কারা প্রার্থী হতে চান, মাঠ পর্যায়ে কার অবস্থান কেমন- এসব বিশ্লেষণ নিয়েই সরগরম থাকছে এলাকা-পাড়া-মহল্লার চায়ের স্টল থেকে লোকালয়।

জানা গেছে, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অন্তত ৮ জন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। যাচ্ছেন জনগণের কাছেও। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। শুধু ২০০১ সালের নির্বাচনে একবার বিএনপি জোট এই আসনটি দখলে নিয়েছিল। এই আসন থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান চিফ হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম ফিরোজ। এবারো তিনি আওয়ামী লীগ থেকে একজন শক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলটির অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা, বিশিষ্ট শিল্পপতি এসএম ফিরোজ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ১ নাম্বার সদস্য জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই আসন থেকে ৬ বার মনোনয়ন দিয়েছেন। বাউফলবাসী আমাকে এবং আমার দলকে বার বার ভোট দিয়েছেন। আমি এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমার প্রচেষ্টায় বাউফল কলেজ এবং বাউফল হাইস্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছে। এর বাইরে এলাকার স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট এবং ব্রিজ-কালভার্টসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই আশা করি, বাউফলবাসী আমাকে আবারো জাতীয় সংসদে পাঠাবে তাদের কথা বলার জন্য।’

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেতা কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট খন্দকার আজিজ ১৯৭২-৭৩ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। আমার বাবা এমপি থাকা অবস্থায় এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। এবার আমি এই আসনে মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন না পেলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করব।’

এদিকে, ২০ দলীয় জোট (বিএনপি-জামাত জোট) থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা শহীদুল আলম তালুকদার, বাউফল উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও এসএম হলের সাবেক ভিপি মো. মনির হোসেন। এর বাইরে জোটের শরিক জামায়াতও এই আসনে প্রার্থী দিতে পারে। শোনা যায়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০ দলীয় জোট থেকে এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

সাবেক এমপি বিএনপি নেতা শহীদুল আলম তালুকদার জানান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তাকে ২০০১ সালে বাউফল-২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং মানুষের ভালোবাসা নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে দুইবার উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে- এটা প্রায় নিশ্চিত। বিএনপি সরকারের আমলে সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় অনেক কাছ করেছি। তাই এই আসনটি আমি এবারো দলকে উপহার দিতে পারব।’

কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও এসএম হলের সাবেক ভিপি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘দুঃসময়ে বিএনপির কাছে রয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা খেয়েছি, অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও দলের সঙ্গে রয়েছি। যারা দল থেকে বিচ্ছিন্ন, তাদেরকে আগামী সংসদ নির্বাচনে দল মনোনয়ন দেবে না। আশা করি, দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সঠিক নেতৃত্বের অভাবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সম্প্রতি এলাকামুখী হয়েছেন। মাঠ গোছানোর নামে আড়ালে-আবডালে নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বাড়িছেন যোগাযোগ। অন্যদিকে, বর্তমান নির্বাচনী মাঠ পুরোপুরি সরকারি দল আওয়ামী লীগের দখলে। চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি সময় পেলেই এলাকায় ছুটে আসছেন, নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এলাকায় তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। স্বাধীনতার পর ২০০১ সালে এই আসনটি আওয়ামী লীগ থেকে একবার হাতছাড়া হয়েছিল। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ চায় আসনটি তাদের দখলে রাখতে। অন্যদিকে, বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য প্রার্থীর বিকল্প নেই। কারণ, আ স ম ফিরোজের মতো প্রার্থীকে পরাজিত করতে হলে বিএনপির সামনে ভালো প্রার্থীর অভাব রয়েছে।