English Version
আপডেট : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৬:২৫

৩৯ বছর পর বিএনপি ম্লান!

অনলাইন ডেস্ক
৩৯ বছর পর বিএনপি ম্লান!

গত চার দশকে কয়েক দফায় ক্ষমতায় থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন অনেকটাই ম্লান। দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশে নেই দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কেন্দ্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি কারো। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন স্থানে যেসব কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, তাতে কোথাও কোথাও নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বলা যায়, কোনো কোলাহল, শোডাউন কিংবা মিছিল মিটিং ছাড়াই নীরব-নিস্তবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলে গেল বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিগত এক দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির ভেতরের পরিস্থিতি বড় নাজুক হয়ে পড়েছে।

অন্যান্যবার বড় ধরনের কর্মসূচি দেখা না গেলেও প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিতে যেতেন নেতারা। এবারও দেয়া হয়েছে, তবে দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিতে যাওয়াটা অনেকটাই ম্লান-বর্ণহীন-উত্তাপবিহীন। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি না নেয়ার পক্ষে নেতারা ঈদুল আজহাকে দায়ি করে যুক্তি দিচ্ছেন। ঈদের পর জোড়ালো কর্মসূচি নেয়া হবে কোনো কোনো নেতা আভাস দিচ্ছেন। তবে সেসব নেতা জানেন না কবে ফিরবেন দলীয় প্রধান।

সূত্রমতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কর্মসূচি না নেয়ার মূল কারণ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি। মাস দেড়েক আগে যিনি চিকিৎসা ও বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে লন্ডন চলে যান।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। জিয়া ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার আগে বিচারপতি সাত্তারকে দিয়ে করেছিলেন জাগো দল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির হাল ধরেন তারই সহধর্মিণী খালেদা জিয়া।

১৯৮৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন দশককাল দলকে সামলাচ্ছেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির উত্তরসুরী হিসেবে জিয়া-খালেদার পর অবস্থান তৈরি হচ্ছিল বড় ছেলে তারেক রহমানের। তবে বিগত সময়ে দলীয় রাজনীতিতে নিউক্লিয়াস হওয়ার আগেই বাধাগ্রস্ত হন তারেক রহমান। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছেন লন্ডনে। এর মধ্যে জিয়া-খালেদার আরেক উত্তরসূরী ছোট ছেলে আরাফাত রহমানও আকালে চলে যান।

বয়স অভিজ্ঞতাকে শাণিত করলেও পুত্রহারানোর ঘটনা খালেদা জিয়াকে অনেকটাই শোকগ্রস্ত করে তুলেছে। যোগ্য উত্তরসূরীর জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। পারিবারিক কাঠামোয় ছন্দ পতন ঘটেছে। এসব কারণ প্রভাব ফেলবে দলে। এমনই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

সামনে আসছে সিটি করপোরেশন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের হারানো আস্থা ফিরে আনতে হবে। তবে সরকারের কৌশলগত হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে দলের ভেতরের কাঠামো অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামীর নির্বাচনে জয় তুলে আনা কতটা যে চ্যালেঞ্জের তা টের পাচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উচ্ছ্বাসবিহীন আয়োজন দেখে আগামীর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের অবস্থান কী হবে তা অনুমান করা যায়।- বর্তমান বাস্তবতায় অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, বিএনপির এই পরিস্থিতি সামলে ওঠা এখন সময়ের হাতে।