দুই নেত্রীর ‘ঐক্যমত্ত’ রাজনীতিতে সুবাতাস
ঢাকা : ১/১১- এর পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে সার্চ কমিটির নানামুখী উদ্যোগে আবার দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ আশাবাদী হানাহানির পথ বাদ দিয়ে দেশের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ ভাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সক্ষম হবে। যা এই সার্চ কমিটির ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল বলেও মনে করছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেশবাসীর আশা করে দেশের অভ্যান্তরীণ রাজনীতিতে সঙ্কটের বরফ গলবে। সার্চ কমিটি ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে যে হোচট খেয়েছিল তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে।
ইতোমধ্যে সার্চ কমিটির ইতিবাচক উদ্যোগে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই সাড়া দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া মোট ৩১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৭টি দল সাড়া দিয়েছে। ২৫টি দল নির্বাচন কমিশনের জন্য নামের তালিকা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিবাচক দিক।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বেশ সক্রিয়ভাবেই সার্চ কমিটির কাছে নামের তালিকা জমা দিয়েছে। দল দুটি গুরুত্বের সঙ্গে নিজস্ব দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর নামের তালিকা জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান দুটি দলের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য ও অমিল থাকলেও তাদের দেয়া নাম প্রস্তাবে অভিন্নতা পাওয়া গেছে। যা দেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তও বটে।
সার্চ কমিটির হাতে জমাদেয়া ব্যক্তিদের নামের প্রস্তাবনায় দল দুটিই দেশের পেশাজীবী শ্রেণিকেই প্রধান্য দিয়েছেন। যাদের অতীতে কোনো রাজনৈতিক সাইবোর্ড ছিলো না এবং নেই।
এই নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদের বাহিরে থাকা প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও খুবই ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি দেখিয়েছেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে দেশের শীর্ষ দু’নেত্রীর এক বৃত্তে অবস্থান খুবই বিরল ঘটনা।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সার্চ কমিটির উদ্যোগে আমরা আশাবাদী যে- তারা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন উপহার দিতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, ইসিরা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাই তিনি যেভাবে যাদেরকে নিয়ে গঠন করবেন তাতে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
প্রসঙ্গত, সার্চ কমিটি ঘোষণার পর প্রধান বিরোধী পক্ষ থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিক্রিয়ায় ও শঙ্কা ব্যক্ত করলেও তাদের দলীয় পরিচয় প্রকাশ করেও গঠিত সার্চ কমিটিকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেননি।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা দাবি করে আসছেন, সার্চ কমিটি নিরপেক্ষ হয়েছে।
এছাড়া আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে সোমবার গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ তারা গণতন্ত্র, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং তাদের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে। তাই জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আর কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্যও সকলকে সতর্ক করেন তিনি।


