English Version
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ১১:১৪

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: গতানুগতিক আত্মতুষ্টিতে ভরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: গতানুগতিক আত্মতুষ্টিতে ভরা

ঢাকা : বর্তমান সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদে তিন বছরপূর্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে হতাশ হয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ একেবারেই গতানুগতিক, আত্মতুষ্টি ভরা। দেশবাসী তার ভাষণে সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছে, আমরাও হতাশ হয়েছি।’

গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবার আশা ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আভাস দেবেন। কিন্তু তার ভাষণে তা না থাকায় এ বক্তব্য সময়ের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই ভাষণে দেশবাসী সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছেন, আমরাও হতাশ হয়েছি।’

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা করছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সব দল মেনে নেবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে আগামী নির্বাচন হবে-সেই কথাটিও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণটি একেবারেই গতানুগতিক। আত্মতুষ্টি ভরা। বৈধ কিংবা অবৈধ সব সরকারকেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কিছু কাজ করতে হয়। কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হয়। জাতীয় উন্নয়নের চিত্র হিসেবে সে সবের ফিরিস্তি দিলে মানুষ হতাশ হয় বলে আমরা মনে করি।’

একতরফা দোষারোপের মাধ্যমে তাঁর ভাষণে প্রচ্ছন্নভাবে অগণতান্ত্রিক ও একদলীয় মানসিকতাই ফুটে উঠেছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন ফখরুল।

হামলা-মামলা, জেল-জুলুমে বিপর্যস্ত বিরোধীদলগুলো সকল গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক স্পেস প্রতিদিন সংকুচিত হচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্নীতি, লুণ্ঠন অবাধে চলছে। ব্যাংকগুলো ও শেয়ারবাজার লুঠ হয়ে গেছে। জনজীবনে নিরাপত্তা নেই, সুবিচার ও আইনের শাসন নেই, শিক্ষার মান নেমে গেছে। আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। শিশুদের পাঠ্যপুস্তক ভুলে ভরা। গুম, খুন, অপহরণ, শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ নিত্যকার ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী সবকিছু সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন।’

ফখরুলের দাবি, রাষ্ট্রীয় ও শাসক দলীয় সন্ত্রাসে সারা দেশে আজ ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী এরজন্য বিরোধীদলকে দায়ী করে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল আরো বলেন, ‘সরকারের বৈধতা ও নৈতিকতার সংকট দেশের প্রধান সমস্যা। অথচ প্রধানমন্ত্রী সেই রাজনৈতিক সংকট এড়িয়ে গেছেন।