English Version
আপডেট : ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ২১:১৩

আদালতে হট্টগোল: খালেদা জিয়া খাননি, নামাজও পড়েননি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতে হট্টগোল: খালেদা জিয়া খাননি, নামাজও পড়েননি

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুপুরের খাবার নিয়ে বিশেষ আদালতের এজলাস কক্ষে তুমুল হট্টগোল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদ্দার আদালতে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। 

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক বেলা ১টা ৪৬ মিনিটে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেন। বিরতি শেষে বেলা ২টা ২২ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। এসময় বিএনপির আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন। জোরে জোরে বলতে থাকেন, ‘খালেদা জিয়া দুপুরের খাবার খাননি; তিনি নামাজও পড়েননি।’ 

তারা আরো বলেন, আপনি সকাল থেকে আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছেন। আপনি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। হট্টগোলের একপর্যায়ে বিএনপির এক আইনজীবী ডায়াসে পরপর তিনটি থাপ্পড় মারেন।

এসময় বিচারককে উদ্দেশ্যে করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপনি খেয়েছেন কিন্তু বেগম জিয়া এখনও খাননি। আপনি নামাজ পড়েছেন কিন্তু তিনি এখনও নামাজ পড়েননি। রায়ের আগে এটা কোন ধরনের শাস্তি। কোন ধরনের মানবতা।

বিএনপির আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী বিচারককে উদ্দেশে বলেন, আপনি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। আপনি খেয়েছেন অথচ বেগম জিয়া এখনও কিছুই খাননি।

বিএনপির আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আপনি আগে বললে আমরা ম্যাডামের খাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসতাম।

সিনিয়র আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ডায়াসে কে থাপ্পড় মেরেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। শুনেছি আমি আসার আগে নাকি আদালতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড হতো। আজ তার বাস্তব প্রমাণ পেলাম।

বিচারকের সামনে এসে আইনজীবী হোসেন আলী খান হাসান বলেন, স্যার আমি থাপ্পড় মেরেছি। ভুল হয়ে গেছে। এবারের মতো ক্ষমা করে দেন। তখন বিচারক তাকে ক্ষমা করে দেন।

এরপর বিএনপির আইনজীবীরা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক নুর আহম্মদকে ফের জেরা করার আবেদন করেন। বিচারক তাদের আবেদনটি মঞ্জুর করে তাকে জেরা করার জন্য ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

বিচারক বলেন, ‘মামলার ৪নং সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক নুর আহম্মদকে ১২ জানুয়ারি জেরা করে শেষ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যেক দিন আদালত চলবে’।

অপরদিকে তারেক রহমানকে ‘জিয়া অরফানেজ’ মামলায় আদালতে হাজির করার বিষয়ে বিচারক জানতে চান আইনজীবীদের কাছে। তখন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আপনি আমাদের ১৫ দিন সময় দিন। এ বিষয় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাকে জানাবো।