English Version
আপডেট : ৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৩

‘পিণ্ডীর কারাগার ভেঙ্গেছি দিল্লীর গোলামী করার জন্য নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘পিণ্ডীর কারাগার ভেঙ্গেছি দিল্লীর গোলামী করার জন্য নয়’

ঢাকা : ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলানীকে। গত বছর থেকে এই দিনটিকে ‘সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

  বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে আজকের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এম পারভেজ লেলিন। সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সৈরাচার এরশাদ পতন আন্দোলনের অন্যতম নেতা কমরেড ফয়জুল হাকিম, নিহত ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক নাঈম মুহাম্মদ খাদিম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ রায়, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাসান মুহম্মদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য, ছাত্র গণমঞ্চের সম্পাদক  নুর সুমন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সুনিল ত্রিপুরা, ইউপিডিএফ এর সংগঠক মিল্টন চাকমা।   সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এম এম পারভেজ লেলিন বলেন, সীমান্তে লাগাতার হত্যার দায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। সরকারের মন্ত্রী, বিজিবি প্রধানসহ দায়িত্বশীল অনেকের হত্যাকাণ্ডে সমর্থনমূলক মন্তব্যও এর জন্য দায়ী। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ কার্যত ভারতের অধীনস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় থাকা ও অবাধ লুণ্ঠনের স্বার্থে শাসক শ্রেণীর দলগুলো আজ দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই এক প্রহসনের নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে। ভারতের মদদেই তারা ক্ষমতায় টিকে আছে। জনগণের স্বার্থ বিরোধী একের পর এক চুক্তি করার মাধ্যমে সরকার এই তাবেদারি করে যাচ্ছে। ক্ষমতা আকড়ে থাকার স্বার্থে ভারতকে তুষ্ট রাখতে বাংলাদেশ জল-স্থল-আকাশ পথ ভারতের কাছে খুলে দিয়েছে।   জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক কমরেড ফয়জুল হাকিম বলেন, গত ১৫ বছরে সহস্রাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বিএসএফ। কোন হত্যাকান্ডের বিচার আজও হয়নি। হত্যার সংখ্যা বেড়ে চলছে দিনে দিনে। উপরন্তু একের পর এক অধীনতার চুক্তি করে যাচ্ছে সরকার। আর সরকার ভারতের অধীনস্ত করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পররাষ্ট্রনীতি।    বক্তারা বলেন, ভারতের মদদে ৫ই জানুয়ারির ভুয়া নির্বাচনে গঠিত সরকারের ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া আজ সময়ের দাবি। 

সমাবেশে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও পথে দেরি হওয়ায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি ফোনে সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।