‘বর্তমানকালের হাটুভাঙ্গা দল বিএনপি’
ঢাবি: বিএনপি হলো বর্তমানকালের হাটুভাঙ্গা দল, তাঁদের অযৌক্তিক দাবি আজ জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, তারা বিগত সময়ের ব্যর্থতম রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে এখন ‘ছেড়ে দে মা ধরে বাঁচি’ অবস্থা।বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগের ৬৯ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সততার রোল মডেল। আমাদের রাজনীতি এবং দেশপ্রেমেরও রোল মডেল তিনি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়নের মডেল। বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরী পরিবার সজিব ওয়াজেদ জয়, টিউলিপ সিদ্দিকী, সায়মা ওয়াজেদ প্রমুখের জীবনের সাফল্য, মেধা ও সৃজনশীলতার চর্চা-ই হলো বঙ্গবন্ধু্ বংশধরের অনন্যতার ও যোগ্যতার প্রমাণ।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার কোন হাওয়া ভবন নেই, তিনি বাংলাদেশের মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে মানুষকে শোষণ করেননি, বরং; তিনি তাঁর পিতার স্বপ্ন ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে শত বাঁধা পেরিয়ে ধ্বংস স্তুপে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির লাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলেছেন।
বিএনপি হলো বর্তমানকালের হাটুভাঙ্গা দল, তাঁদের অযৌক্তিক দাবি আজ জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, তারা বিগত সময়ের ব্যর্থতম রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে এখন ‘ছেড়ে দে মা ধরে বাঁচি’ অবস্থা।
ছাত্রলীগের সমাবেশে বিশাল উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী পরগাছাকে প্রতিহত করতে হবে। ছাত্রলীগ কোন বিশেষ নেতার প্রটোকল দেবার সংগঠন নয়, তোমরা কখনো নেত্রী'র সম্মানকে ক্ষুন্ন করবে না। তাঁকে জাতির কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন করবে না, ছাত্রলীগ পরিবার গণমানুষের অধিকার আদায়ের নিবেদিত প্রাণের সংগঠন।
ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়নকে ত্বরাণ্বিত করার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করা।ছাত্রলীগকে-ই এই বাঁধার সাগর পাড়ি দিতে হবে শক্ত হাতে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে তিনি ছাত্রলীগের ঐতিহ্যবাহী গণর্যালি উদ্বোধনের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সম্মেলনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বাংলাদেশকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান ইশতেহার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে একযোগে বিপ্লব পরিচালনা করার শপথে বলিয়ান। আমরা পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ হিসেব ২০২১ সালের মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করবো। সততা ও ন্যায়বোধ-ই হলো ছাত্রলীগের মূলধন।
সম্মেলনর আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক এমপি। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সসহ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা।
সকাল থেকেই অনুষ্ঠানে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা মিছিলে মিছিলে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
এর আগে সকাল ১০টায় শহীদুল্লাহ হল-এ কেক কেটে জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে ছাত্রলীগ। তারপর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সম্মেলন শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ছাত্রলীগের বিশেষ র্যালি শুরু হয়ে শাহবাগ, মৎস ভবন ও জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।


