English Version
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ২০:৩৪

ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার

ঢাকা : দেশের সব স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল বুধবার। এর ফলে ৭০ বছরে পা রাখবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলা ও বাঙালীর স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষেই মূল দল আওয়ামী লীগের জন্মের এক বছর আগেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গৌরব ও ঐতিহ্যের এ ছাত্র সংগঠনটি।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি একঝাঁক মেধাবী তরুণের সমন্বয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সংগঠটি। তার নেতৃত্বেই ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়।

৬৯ বছরে ছাত্রলীগের অর্জন হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদান। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।

সংগঠনটির ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীটি উৎসবমুখর ও আনন্দঘন করতে সাজ-সজ্জাসহ নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। সেই সাজের ছোঁয়া লেগেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ভবনের প্রতিটি দেয়ালে। তুলে ধরা হয়েছে সংগঠনটির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ‘চিত্রপটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, রোকেয়া হলের দেয়ালে আকাঁ হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি।

এছাড়া বর্তমান সরকারের ডিজটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ফুটে উঠেছে ছবিতে। আছে কোমলমতি শিশুদের বই উৎসবের চিত্র। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এসবও নানা স্লোগান আর চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি কার্জন হলে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। চিত্রে সেই কথাও উঠে এসেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা অধিকার আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দেয়াল চিত্রে এসব বিষয়ও উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল রহমান লিমন ব্রেকিংনিউজকে জানান, ছাত্রলীগের কর্মীরা রং তুলি দিয়ে এই ছবিগুলো অংকন করেছে।

তিনি বলেন, ‘সংগঠনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রথমবারের মতো দেয়াল চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত নতুন প্রজন্ম ছাত্রলীগের ইতিহাস জানতে পারবে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

দেশেকে নিরক্ষরমুক্ত করতে সংগঠনের সকল কর্মীদেরকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশেকে নিরক্ষরমুক্ত করতে চাই আর এই কর্মসূচি পূরণ করতে সংগঠনের সকল কর্মীদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবারে ন্যায় এবারও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী র‌্যালি হবে। র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগ হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে। এতে সাময়িক যানজট হতে পারে সেজন্য রাজধানীবাসীর কাছে অগ্রীম দুঃখ প্রকাশ করছি।’

প্রতিষ্ঠার দিনকে উৎসবমুখর করতে নয়টি উপ-কমিটি করা হয়েছে ও ইতোমধ্যে প্রায় সকল ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানান ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ।

তিনি বলেন, ‘দেশের সকল স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগ। মুক্তিযুদ্ধে ১৭ হাজার নেতাকর্মী আত্মহুতি দিয়ে দেশের জন্য, সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এই সংগঠন শুধুমাত্র ছাত্রসমাজের নয়, দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় সংগঠন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সঙ্গে দেশের সকল মানুষকে সংযুক্ত করে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার লক্ষকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ ২০১৭ সালে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে কাজ করবে সংগঠনের সকল নেতাকর্মীরা বলে জানান তিনি।