বিদায়ী বছর নীরবে কেটেছে যেসব মন্ত্রীর
২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি মহা ধুমধামে নবগঠিত হয় আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভা। মহাজোট সরকারের এ মন্ত্রিসভায় স্থান পান অনেক নতুন মুখ। আবার কাউকে কাউকে মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে দেয়া। মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বিভিন্ন কারণে আলোচনায় আসেন। কেউ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য, আবার কেউ বেফাস মন্তব্যের কারণে।
এর ব্যতিক্রমও আছে। অনেকে ইতিবাচক, নেতিবাচক কোনো কারণেই আলোচনায় নেই। কয়েক জন মন্ত্রী আছেন যাদের নাম সাধারণ মানুষ জানেই না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর সভা-সমাবেশ কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমেই তাকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা বা সমালোচনা হয়নি। বিদায়ী বছর ২০১৬তেও নীরবে রয়ে কাটিয়ে দিলেন এ মন্ত্রী। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তিনিও ১২ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরুতে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সামান্য আলোচনায় আসলেও বিদায়ী বছর ২০১৬তে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি এ মন্ত্রীর।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। মন্ত্রী হিসেবে হজের সময় বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে দেখা মিললেও তেমন কোনো আলোচনা হয়নি তাকে নিয়ে। বছরের বিভিন্ন সময় তিনি অসুস্থ থাকেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। তবে এলাকায় তার ছেলের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয়ভাবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে আওয়ামী লীগের ভেতরে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। বিদায়ী বছরের শুরুতে মন্ত্রণালয় কিংবা তার বাইরে তেমন কোনো আলোচনায় ছিলেন না এ মন্ত্রী। তবে বছরের শেষ দিকে নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার পর তার নাম আলোচনায় আসেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটা পক্ষ হামলায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে। এর পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে মালাউন বলে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন।
মহাজোট সরকারের জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। বিদায়ী বছরে এ মন্ত্রীও তেমন কোনো আলোচনায় ছিলেন না। তবে সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিপরিষদের এক সভায় তাকে আলোচনায় আনেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তাকে পাঁচকোটি টাকা সাংবাদিকদের কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে দেয়ার জন্য রাজি করান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হন এ মন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনা ও অর্থ এ দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। কিন্তু তাকে বিদায়ী বছরে খুব একটা সরব দেখা যায়নি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি ২০১৪ সালে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর মন্ত্রণালয় কিংবা এর বাইরে কোথাও তেমন কোনো আলোচনায় নেই এ মন্ত্রী।
বিদায়ী বছরে আওয়ামী লীগের মধ্যে সব চেয়ে আলোচিত ব্যক্তি হচ্ছেন দলটির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু একই ব্যক্তি তার মন্ত্রণালয়ে তেমন কোনো আলোচনায় নেই। ২০১৫ সালের ৭ জুলাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে নিজ মন্ত্রণালয় নিয়ে কয়েকটা বৈঠক করে আলোচনা আসলেও বিদায়ী বছর ২০১৬তে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক তেমন কোনো আলোচনায় ছিলেন না তিনি।


