English Version
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০৩:০৪

‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্ব শর্ত ইসি নয়, নিরপেক্ষ জাতীয় সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্ব শর্ত ইসি নয়, নিরপেক্ষ জাতীয় সরকার’

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, সংবিধানে বর্ণিত আছে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। আর সেই জনগণের আকাঙ্খা পূরণ না হলে সংবিধানের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়। নির্বাচন হতে হবে জনগণের আকাঙ্খা পূরণের জন্যে।

তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্খিত অবাধ-নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ সরকার বা জাতীয় সরকার। নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্ব শর্ত শক্তিশালী ইসি নয়, নিরপেক্ষ বা জাতীয় সরকার।

বি চৌধুরী বলেন, ‘আইভী যখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে, তখনও জয়লাভ করেছেন। তার মানে আইভীর নিজস্ব একটা বিরাট ভোটবাক্স আছে। ওনার সততা, নিষ্ঠা, ভদ্রতা এবং পিতার যে পরিচয় ছিল সব মিলিয়ে ওনার নিজস্ব ভোট আছে। সেটা বিরাট ভোট, যেটা আওয়ামী লীগকে হারাতে পারে, এ রকম ভোট। সেই ভোট তাঁর ছিল, তার সঙ্গে নৌকার কিছু ভোট যুক্ত হয়েছে এবং সেই তুলনায় বিএনপি বেশি ভোট পেয়েছে। সুতরাং এতে দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই, লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।’

সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ নিউ জেনারেশন পার্টি-বিএনজিপির ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, নিরপেক্ষ বা জাতীয় সরকারের দাবি আদায় করতে পারলেই কেবল শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশনারই নিরপেক্ষ বা শক্তিশালী হতে পারবে না।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী অন্তবর্তী সরকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধী দলের উচিত ছিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। সেই প্রস্তাব না মেনে ও নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি চরম ভুল করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত। রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরমর্শ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তাই রাষ্ট্রপতির উচিত প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তালিকা নিয়ে সব দলের সাথে প্রকাশ্যে আলোচনা করা।

পার্টির সভাপতি জাহিদ ইকবালের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকমল বড়ুয়া, সাবেক এমপি গোলাম মাওলানা রনি, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ হানিফ, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, কবি সুলতান আহমেদ বিশ্বাস, পার্টির সহ-সভাপতি আরাফাত মাহমুদ, যুগ্মসম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম, নুর আলম সিদ্দিকী মানু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো: মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য মাহফুজুর রহমান রাহাত প্রমুখ।