‘ফারুকি হত্যার বিচার এখনও পেলাম না’
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আজ দুবছর অতিবাহিত হয়ে গেল অথচ আল্লামা শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকি হত্যার বিচার পেলাম না। বিচার হওয়ার তো দূরে থাক, এখনো তার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হল না।
ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকি হত্যার বিচারের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ তিনি এ কথা বলেন। ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর সভাপতি শেখ ফরিদ মজুমদারের সভাপতিত্বে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মাসুদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, সরকার কি সত্যি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে? যদি কাজ করেই থাকে তবে কেন ফারুকি হত্যার বিচার কেন পাচ্ছিনা? আল্লামা ফারুকি সমসময় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, যারা ইসলামের নামে রগকাঁটা, বোমাবাজি, সন্ত্রাবাজী করে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। এই জঙ্গিবাদের অনুসারী ও পৃষ্ঠপোষকরা আল্লামা ফারুকিকে অনেকবার হত্যার হুমকি দিয়েছিল তারপরেও তিনি সত্যিকার ইসলামের কথা বলে গেছেন। হক্ব কথা প্রচার করে গিয়েছিলেন। তার হত্যাকান্ডের পর আমরা দেখতে পাই জঙ্গিবাদীরা আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। যার দৃষ্টান্ত আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি।
গুলশানের মতো ডিপ্লোমেটিক জোনে হোলি আর্টিজান রেস্তোরায় আহলে হাদিস,লা মাযহাবী, সালাফি, জাকির নাইক, বিলাল ফিলিপ্স পন্থিরা ইতিহাসের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজে বোমাবাজি করেছে এই সালাফি,মওদুদিপন্থিজঙ্গিরা। আর এই আহলে হাদিস,লা-মাযহাবী,সালাফি ভ্রান্তমতবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকি। তাই সরকারের নিকট আমাদের জোড়ালো দাবি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন এবং ভবিষ্যতে তারা যেন তাদের কর্মকান্ড না ঘটাতে পারে তার দৃষ্টান্ত হিসেবে আল্লামা ফারুকি হত্যার বিচার করুন। তার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করুন।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সরকার আল্লামা ফারুকি হত্যার বিচারের জন্য মোটেও আন্তরিক নয়। কেননা আজ আমাদের আমাদের এই বিক্ষোভ সমাবেশ বা’দ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তুপ্রশাসন আমাদের বাঁধা দিয়েছে। আমরা আজ পর্যন্ত কোন উসকানী মূলক কিংবা বিশৃংখলাপূর্ণ কর্মসূচী করিনি,তবে কেন আজ বাঁধা দেয়া হল? নিকট অতীত দেখা যায় নাস্তিক ব্লাগার রাজিব হত্যাকান্ডে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাজিবের বাসায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৯০% মুসলিম প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও,জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা সত্ত্বেও আজ দেশের জনপ্রিয় আলেম খুন হচ্ছে এবং তার বিচারও হচ্ছেনা। আর কত হত্যার বিনিময়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম এই রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।
এডভোকেট শাহীদুল আলম রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের মিডিয়াদের কার্যকলাপ আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তারা যেভাবে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। কিন্তু একজন মিডিয়া জনপ্রিয় ব্যক্তি হয়েও আল্লামা ফারুকি হত্যার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার নয়। ভারত থেকে আসা একটা হাতির জন্য তারা যেভাবে তারা সময় ব্যয় করেছে,তার এক ভাগও যদি বাংলাদেশে বন্যা কবলিত হত দরিদ্র মানুষদের জন্য ব্যয় করতো তাহলে এই অসহায় মানুষ গুলোর সাহায্যের জন্য সকলে এগিয়ে আসতো।
আমরা জামালপুর,রংপুর,বগুড়া,সুনামগঞ্জ,দিনাজপুর,সিরাজগঞ্জতে বন্যা পিড়ীত মানুষদের ত্রাণ দিতে গিয়ে দেখলাম,৫-৬ মাইল পাড়ি দিয়ে এতো কড়া রোদ উপেক্ষা করে ৮০-৯০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা পর্যন্ত ত্রাণ নিতে আসছে। তাদের নিয়ে আমাদের সাংবাদিক ভাইদের কোনা মাথা ব্যথা নেই, কিন্তু ভারতীয় একটি হাতির জন্য তাদের এতো মায়া কান্না। তাই তাদেরও বলবো, সময় থাকতো দেশ ও জনগণের চাওয়া-পাওয়া গুলোকে গুরুত্ব দিন, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে শিখুন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের অর্থ সম্পাদক এডভোকেট শাহীদুল আলম রিজভী,ইসলামি ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ছাত্রনেতা এম মনির হোসাইন,সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইউসুফ হাসান মাহমুদী,ইসলামী ছাত্রসেনা সম্মিলিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা জোন সভাপতি এবিএম আরাফাত,ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক সামিউল শুভ,মুগদা থানা সভাপতি নূর হোসেন তুষার সহ প্রমুখ।


