English Version
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:২৮

খালেদার বিরুদ্ধে নড়াইলে গ্রেফতারি পরোয়ানা

অনলাইন ডেস্ক
খালেদার বিরুদ্ধে নড়াইলে গ্রেফতারি পরোয়ানা

স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরুপ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন নড়াইল আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে নড়াইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতের বিচারক জাহিদুল আজাদ এ আদেশ দেন।

গত ২৫ জুলাই দুপুরে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস সালাম জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকতৃ মামলায় সমন পেয়ে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আগামী ৩১ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন।

এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হয়। মামলার বাদী নড়াইলের নড়াগাতি থানার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম জেলা (নড়াইল) আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে এ খবরটি পড়ে মারাত্মক ভাবে ক্ষুদ্ধ হন। পরে রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২৪ ডিসেম্বর (২০১৫) দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি মধ্যে জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দেন। বাদী রায়হান ফারুকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি হওয়ার শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার এ ধরণের বক্তব্যে মর্মাহত হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি।

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নড়াইলের একটি আদালতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরো একটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়।  

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে ওইদিন (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামেও একটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দু’টি দায়ের করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিক বিল্লাহ।

নড়াইল সদর আমলী আদালতের তৎকালীন বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ জাকারীয়্যা (বিচারক এই বানান লেখেন) মামলা দু’টির বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতাকে (ওসি) এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ মামলার বাদী শেখ আশিক বিল্লাহ বলেন, আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন মানুষ হওয়ার শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বিতর্কিত বক্তব্য এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যে মর্মাহত হয়ে মামলা দু’টি দায়ের করি।