English Version
আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০১৬ ২১:৪৪

কাঁদলেন বিএনপি মহাসচিব

অনলাইন ডেস্ক
কাঁদলেন বিএনপি মহাসচিব

দলীয় নেতাকর্মীদের বর্তমান অবস্থার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘আমার দেশ পড়তে চাই, মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চাই দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

রাজধানীর ফার্ম গেইটের কাছের একটি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, `প্রতিদিন গাড়িতে আসি, যানজটে গাড়ি থামলে দেখি সব ইয়াং ছেলে-পেলে ছুটে আসে। বলে স্যার আমিতো বিএনপি করতাম লক্ষীপুরে। এতো মামলার ভারে পালিয়ে চলে এসেছি ঢাকায়, এখন এখানে হকারি করেছি।`

`রিকসা চালায় আমাদের ছেলেরা`- একথা বলার সময় তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। দুঃখ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল এসময় বলেন, `আবেগ ধরে রাখতে পারছি না। আমাদের দলের ছেলেদের এরকম করুন অবস্থা।`

তিনি বলেন, `আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা ধরেই নিয়েছি শেষ জীবনে হয়ত জেলেই কাটাতে হবে। যতগুলো মামলা আছে, সেই মামলায় যদি ৫/১০ বছর করে জেল হয়, তাহলে ২৫০/২৬০ বছর সাজা হবে।`

বিএনপি সমর্থিত ‘এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিসিয়ার্স বাংলাদেশ’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৩৫টি অনলাইন পত্রিকা একমুহূর্তে বন্ধ করে দেয়ার পরও সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না। প্রতবাদে রাস্তায় বের হলে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, আপনার সন্তানকে তুলে নিয়ে যাবে বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ চলছে। দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। মানুষের কোনো অধিকার নেই। এ অবস্থায় স্বকীয়তা ও নিজস্বতাকে রক্ষায় রুখে দাঁড়াতে ও ঘুরে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, জঙ্গিবাদের কথা বলে প্রতিদিন ১ থেকে ২ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হচ্ছে।  সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করে বন্দুকযুদ্ধের নামে মেরে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে কোন সঠিক তদন্ত করা যাচ্ছে না।  তবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্য ব্যাপকহারে চলছে।

রাজধানীতে জনসভা করার স্থান ক্রমশ সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পল্টন ময়দান এখন আর নেই। এটা এখন আউটার স্টেডিয়াম, ভাসানী স্টেডিয়াম, জিমনিসিয়াম- পুরোটাই দখল হয়ে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের জেলা অফিসগুলো অনেকগুলো খুলতেই পারে না, তালা-চাবি দিয়ে রাখা হয়। খুললেও পুলিশ বসে থাকবে, অনেক সময় অফিসের ভেতরে বসে থাকবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ফরহাদ মজহার, আমার দেশ এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব ও আমার দেশ এর নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আমার দেশ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সিনিয়র প্রতিবেদক কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপির সহ প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।