English Version
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৬ ২২:৫৬

মন্ত্রণালয়কে নয়, মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিদের দায়ী করেছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্ত্রণালয়কে নয়, মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিদের দায়ী করেছি’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সে শনিবার বিকেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে নয়, মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।’

তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বক্তব্যকে সরকারের বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে। এটা নিয়ে প্যাঁচানোর কোনো সুযোগ নেই। আমি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বলি নাই, আমার বক্তব্য কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।’

আ জ ম নাছির বলেন, ‘চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও জোয়ারে সমতলে পানি জমে যায়। কেউ যখন বলে আপনি তো পারছেন না তখন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কথাটা বলেছি। বিষয়টা হলো আমি কারো বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ করিনি। আমি রাজনৈতিক এলিমেন্ট, এখানে টুইস্ট করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সামান্য কর্মী। আজও প্রধানমন্ত্রী আবেগতাড়িত হয়ে বলেছেন, কেন বঙ্গবন্ধু এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আমরা সেই জন্য কাজ করছি, একটা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের জন্য কাজ করছি। আমি তো পুরো মন্ত্রণালয়কে দায়ী করিনি, ব্যক্তিকে দায়ী করেছি। এখানে সরকারের বিষয়টি যারা এনেছেন তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করেছেন। আমিও সরকারের একজন।’

নাছির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আমি বিবেকের তাড়না থেকে দিন রাত কাজ করছি। ঈদের আগের দিনও কাজ করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ। নিজের জীবন দিয়ে হলেও এ আস্থা ধরে রাখব।’

তিনি গত বুধবার নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে ‘চট্টগ্রাম নগর সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, ‘যদি ৫ শতাংশ করে দিতে পারতাম, তাহলে ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা আনতে পারতাম।’

গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জ্যোতির্ময় দত্ত চিঠি দেন। চিঠিতে কোন কর্মকর্তা কোথায় কখন ঘুষ দাবি করেছেন, কে কোথায় কখন পাজেরো জিপ চেয়েছেন, কোন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে কোন কর্মকর্তা জটিলতা সৃষ্টি করেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে উপযুক্ত প্রমাণ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে অনুরোধ জানানো হয়।

চট্টগ্রামের মেয়র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, তা অত্যন্ত ‘গুরুতর’ উল্লেখ করে আগামী সাতদিনের মধ্যে এসব প্রমাণ দাখিল করতে বলা হয়েছে। মেয়রের আনা অভিযোগে মন্ত্রণালয় তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়।