English Version
আপডেট : ৫ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:০৩

আজ শেখ কামালের ৬৭ তম জন্মদিন

অনলাইন ডেস্ক
আজ শেখ কামালের ৬৭ তম জন্মদিন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের ৬৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৯ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জন্ম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মাত্র ২৬ বছর বয়সে নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন শেখ কামাল।   আজ শুক্রবার নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর জন্মদিন উদযাপন করবে। শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৮টায় ধানমণ্ডির আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ; সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শেখ কামালের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল; সকাল ১০টায় যুবলীগের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালার ৬ নম্বর গ্যালারিতে শেখ কামালের বৈচিত্র্যময় জীবনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।   গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শেখ কামালের জন্মদিন পালনের অনুরোধ জানান। শেখ কামাল রাজধানীর বিএএফ শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছায়ানটের সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়ন ও সমাজ চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে মঞ্চনাটক আন্দোলনের প্রথম সারির সংগঠক ছিলেন তিনি। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী'।    শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় প্রচণ্ড উৎসাহ ছিল তাঁর। তিনি ছিলেন অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতাও শেখ কামাল। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাবির 'ব্লু' খেতাবপ্রাপ্ত অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে কামালের বিয়ে হয়। ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাসভবন আক্রমণ করার আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।    তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা শেষ না হতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণ করেন শেখ কামাল।