দেড় বছরেও নড়াইলে গঠন হয়নি আ.লীগের কমিটি
সম্মেলন হওয়ার ১৭ মাসে পার হলেও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের অভিযোগ, দলীয় বিধি মেনে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়নি।
আট বছর পর ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন।
অা.লীগের জেলা পর্যায়ের নেতারা বলেন, কাউন্সিলরদের মতামত অথবা ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশের কথা বলে মাহবুব উল আলম হানিফ সুবাস বোসকে সভাপতি ও নিজাম উদ্দীন খানের নাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। এখন এক পরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আরেক পক্ষে আছেন বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মহম্মদ আলী।
২০১৫ সালের সম্মেলন ঘিরে তাঁদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। বিভক্তির জের ধরে পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে দলে পৃথক বলয় তৈরি হয়। তবে কেন্দ্রের নির্দেশে সম্মেলন সফল করতে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করার পর তাঁরা আবার বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এস এ মতিন বলেন, দলে বিরোধের কারণে সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। সম্মেলন ঘিরে দুই পক্ষে এক হয়ে কাজ করলেও কমিটির পদ নিয়ে ভেতরে ভেতরে বিরোধ ছিল।
সৈয়দ মুহাম্মদ আলী বলেন, দুই পক্ষে উত্তেজনার কারণে সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি, এটা ঠিক নয়। কমিটি ঘোষণার পরিবেশ ছিল। জেলা কমিটি গঠনে সভাপতি পদে আটজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাতজন প্রার্থী ছিলেন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের কথা ছিল।
মুহাম্মদ আলী বলেন, সম্মেলনের দিন জেলার ১৩৫ কাউন্সিলরকে সার্কিট হাউসের নিচের হলরুমে বসিয়ে রাখা হয়। যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী, শুধু তাঁদের সার্কিট হাউসের ভিআইপি ১ নম্বর কে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধান অতিথি দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনার কথা বলে সুবাস বোসকে সভাপতি ও নিজাম উদ্দীন খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন।
এরপর অতিথিরা পুলিশ ও র্যাবের পাহারায় সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ২২ ফেব্রুয়ারি জেলার ৮৫ জন কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সভানেত্রীর কাছে জানিয়েছেন।
বর্তমান কমিটির সম্পাদক নিজাম উদ্দীন খান বলেন, জেলা কমিটি গঠনের ব্যাপারে পক্ষ-বিপক্ষ নেত্রীর কাছে নাম জমা দেওয়া হয়েছে। উভয় পরে সমন্বয়ে জেলা কমিটি করার জন্য দলীয় সভানেত্রী খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের ওপর দায়িত্ব দেন। জেলা কমিটির সভাপতি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে কমিটিতে তাঁর পছন্দের কয়েকজনের নাম রাখার সুপারিশ করেন। যে কারণে কমিটি এখনো হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সুবাস বোসকে ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। আর তিনি ঢাকায় থাকায় সাাক্ষাৎ করা যায়নি। সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নড়াইলের পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোও করা যাচ্ছে না। বিরোধের কারণে দলের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতেও নেতারা এক হতে পারেন না।
জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না। জাতীয় দিবসগুলোতেও স্থানীয়ভাবে কোনো আয়োজন করা হয় না। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো দুই পক্ষের দায় সারাভাবে পালন করে।


