English Version
আপডেট : ৯ জুলাই, ২০১৬ ০১:২৮

সরকারকে খালেদার পদত্যাগের চাপ, রহস্য কি?

অনলাইন ডেস্ক
সরকারকে খালেদার পদত্যাগের চাপ, রহস্য কি?

রাজনৈতিক ঝড়, না ইসলামের কথিত শাসনের নামে হামলা- এখন সারাদেশ জুড়েই আলোচনা। ঈদের আনন্দেও নিরানন্দের রেশ রয়েছে। ঈদের আড্ডায় সব মহলে বা সব বয়সীদের মাঝে আলোচনার খোরাকে একটাই প্রশ্ন- উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের বিপথগামী প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশ প্রতিহত করার পর্যায়ে আছেতো ? 

এমন কিছুর আদ্যপান্ত বিচার করতে যেয়ে রাজনৈতিক নেত্রী হিসাবে সন্দেহের তালিকায় তিন বারের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও পড়ে গেছেন। পুরো রমজান জুড়ে কোটি কোটি টাকার ইফতার উৎসব প্রতিদিন সেরেছিলেন তিনি। কিন্তু গুলশান হামলার দিনে তাঁর সর্বপ্রথম কোনো ইফতার মাহফিল ছিল না! ঠিক ওই রাতেই দলের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তাও চাওয়া হলো। এর পরেই কথিত ঐক্যের কথা বললেন। দেশের কয়েকটি অনলাইন মাধ্যম কে নিয়ে জানান দিলেন, আলোচনায় একমাত্র পথ উত্তরণের। ঠিক ঈদের দিন তালগোল পাকিয়ে ফেললেন বেগম জিয়া। বলে বসলেন, সরকারের পদত্যাগই একমাত্র পথ। তাহলে কি বাংলাদেশে এখন যা হচ্ছে তার সব নীল নকশা বেগম জিয়ার কাছে রয়েছে?

বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিক বক্তব্যের কার্যক্রমে বলছে, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করছেন, নতুবা তিনি সব কিছু অবগত।

এদিকে দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম প্রতিবেদন করেছে, আই এস কিংবা মৌলবাদী সংগঠনগুলো তখনই থেমে যাবে যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল্গুলোর মধ্যে ঐক্য থাকবে। কিন্তু প্রশ্নটা হলো, আই এস কিংবা এমন ধাঁচের বা পন্থী সংগঠনগুলো কি সারা বিশ্বে তাঁদের আক্রমন করা থেকে বিরত আছে? নিশ্চয়ই তাহলে এই ধরণের আক্রমণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন দ্বারা পরিচালিত কিনা তা নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকছে।

এই প্রসঙ্গেই শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক প্রফেসর শাহেদা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একদিন আগে বললেন ঐক্য, এখন বলছেন পদত্যাগ- তাহলে কি যা হচ্ছে দেশে, সেসবের উপর ভিত্তি করে তিনি বলতে চাইছেন, আমার সঙ্গে বসো, নচেৎ এসব চলতে থাকবে?

অন্যদিকে গুলশান হামলার দিনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত বলয়ের নেতাকর্মীরা এক রকম উল্লাসীয় আঙ্গিকে স্ট্যাটাস দিতে। এমন ঘটনার পর বিএনপি বলয় থেকে কেন এমনটা করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, হালের একটার পর একটা আক্রমণ গুলোকে বেশ উপভোগ করছেন বেগম খালেদা জিয়া ও তার অনুসারীরা। বিএনপির সব পর্যায়ে এমন হত্যাকান্ডের খবরে ব্যথিত হলেও খালেদা পন্থীদের উৎসবের আমেজে সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিতের পর খালেদা জিয়ার নামে প্রকাশিত নিবন্ধটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ওই নিবন্ধ লেখার কথা অস্বীকারের পর এনিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এর সত্যতা যাচাইয়ে একটি অনলাইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সংবাদপত্রটি তাদের অবস্থান জানায়।

দেশের জনপ্রিয় একটি অনলাইন পোর্টাল এর ই-মেইলের উত্তরে ওয়াশিংটন টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড এস জ্যাকসন জানান, এজেন্টের মাধ্যমে পাঠানো নিবন্ধটি যে খালেদা জিয়ার তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তা ছাপিয়েছেন তারা।

“ওই নিবন্ধটি ওয়াশিংটন টাইমসের কাছে আসে মার্ক পার্সির মাধ্যমে, লন্ডনভিত্তিক এই মধ্যস্থতাকারী খালেদা জিয়ার পক্ষে কাজ করেন। নিবন্ধটি প্রকাশের আগে এবং পরেও তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করেছি, আমরা এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নিঃসন্দেহ।”

 

তবে যাই ঘটুক না কেন, ক্ষমতাসীন দলের কান্ডারি শেখ হাসিনা বলছেন, অপেক্ষা করুন। এসব জঙ্গিবাদ টিকবে না। অন্যদিকে খালেদা জিয়া ঠিকই রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছেন, হয়তো তার পরিকল্পনা মতোই এগুচ্ছে। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি নাশকতাকে সঙ্গী করে বিজয়ী না হতে পারলেও, প্রকারন্তরে বলতে চাইছেন, আমি ফুরিয়ে যাইনি। এমন কি মাহে রমজানের এক ইফতার মাহফিলেও বলেছেন, আমি ফুরিয়ে যাই নি, আমার ক্ষমতা আছে। তাহলে কি সাম্প্রতিক সময়ে যা হচ্ছে তা বেগম জিয়া ও তার ইদানিংকালের প্রধান অর্থের যোগানদাতা ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী মীর কাসেমের প্রচ্ছন্ন অংশগ্রহনেই গুলশান হামলা, শোলাকিয়া কিংবা আসন্ন হামলা গুলো চলছে ও চলবে?