শেখ হাসিনাই লুটেরাদের প্রধান
ক্ষমতাসীনদের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনাকে লুটেরাদের রাজা, রানি যাই বলেন না কেন তিনিই লুটেরাদের প্রধান।
রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস কনভেশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় এক ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে ৬.৩৫টায় ২০ দলীয় জোট শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইফতার মাহফিলে যোগ দেন খালেদা জিয়া।
সম্প্রতি জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ফাহিম প্রসঙ্গে চেয়ারপারসন বলেন, ‘ফাহিমকে ক্রসফায়ার নয়, একে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ দ্বারা হত্যা মানে হাসিনা জড়িত। কারণ হাসিনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংক লুটপাট হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লুট হয়, আগে কখনো শুনিনি। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে নতুন নতুন অনেক কিছু দেখা যায়। তা থেকে দেশকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। অথচ তাদের মুখে বড় বড় বুলি। তারা মিথ্যা ছাড়া কখনো সত্য কথা বলে না। একটার পর একটা দেশবিরোধী কাজ করে।’
এ সময় তিনি দাবি করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য কিছু করছি এমনটা নয়। দেশকে বাঁচাতে এবং মানুষকে বিপদ থেকের রক্ষার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে।’
চেয়ারপারসন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি নিজেই দেখেছেন, ১৫ হাজার বন্দি রয়েছে। আজকে দেশের সাধারণ মানুষ অপরাধ করে না। অপরাধ করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ আর পুলিশ। এখন গণগ্রেফতারের নামে চলছে পুলিশি নির্যাতন ও বাণিজ্য। একদিকে গুম খুন অন্যদিকে জেলখানায় দিনের পর দিন আটক রেখে শেষ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সেখানে ন্যায়বিচার পায় না। এখন সকলের জন্য সমান বিচার নয়। এখানে আওয়ামী লীগের জন্য একরকম আর বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম বিচার। অপরাধী আওয়ামী লীগ হলে ছেড়ে দেয় আর বিএনপি নেতাকর্মী কিছু না করলেও তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়বলে তিনি।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন―বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এম এ মান্নান, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার প্রমুখ।
২০ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন―বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মশিউল আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশে ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজিপি) সালাহ উদ্দিন মতিন প্রকাশ, জাতীয় পার্টি (জাফর) আহসান হাবীব লিংকন, দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী প্রমুখ।
লেবার পার্টির নেতাদের মধ্যে ইফতার মাহফিলে যোগ দেন―লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, সহসভাপতি ফারুক রহমান, এমদাদুল হক চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম রাজু, আলাউদ্দিন আল আলী, মাহবুবুর রহমান খালেদ, উম্মে হাবীবা রহমানসহ দলের নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ডেপুটি হাইকমিশনার টিম বোলোটনিক অফ ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।


